গল্প | বাড়িওয়ালীর মেয়ে - পর্ব-১৪ | Bariwalir Meye - Part-14
লেখা | অনিক হাসান
১৩ তম পর্বের পর থেকে.......
সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে ভার্সিটিতে গেলাম। আজকে তিথী ফোন ও দিলো না আবার ভার্সিটিতে দেখলাম না।
দুজনের আবার কি হলো উপরওয়ালা ভালো জানে।
এভাবে আরও দুদিন কেটে গেল।
আজ রাফির বিয়ে। অবশ্য গতকাল ও এসে দাওয়াত দিয়ে গেছে।
বিয়ে তে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি এমন সময় তিথী কল করলো।
---হ্যালো। (আমি)
---অনিক তোমার সাথে আমার কথা আছে। ((তিথী))
---কি কথা বলো?
---ফোনে বলা যাবে না।
---তাহলে কিভাবে বলবে?
----আজকে আমার সাথে দেখা করতে পারবে?
---এখন তো আমি বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। এসে কথা বলবো।
তিথী আর কিছু না বলে কল কেটে দিলো।
কি কথা বলতে পারে ভাবতে লাগলাম? মনে হয় ডিসিশন নিয়ে নিছে। হয়তো তাই জানাতে কথা বলবে। কিন্তু আমি তো তিথীকে পছন্দ করি। যদি বিথীর কথা বলে!
নাহ! নিজের ভালোবাসা কেন আরেকজনকে দিবে। তিথী আমার ই হবে।
এখন আর এসব না ভেবে রাফির বিয়েতে গেলাম।
আকাশ আমার আগেই চলে এসেছে। আমাকে দেখে বলল,"এতো দেরী করলি ক্যান?"
---আর বলিস না। খুব টেনশনে আছি।
---তোর আবার কিসের টেনশন?
---শালা গাছে তুলে দিয়ে মই টান দিয়ে বলছিস কিসের টেনশন?
---আরে শান্ত হ এবার।
----কি করে শান্ত হবো? ইচ্ছে হচ্ছে তোদের দুজন কে গাছের সাথে উল্টো করে আচ্ছা মতো ধোলাই করি।
---রাগিস না বন্ধু। রাফির বিয়েটা হলে দুজন মিলে একটা ব্যাবস্থা নিবো।
---একবার তোদের বুদ্ধি শুনে যে বাঁশ খাইছি দ্বিতীয় বার আর সে ভুল করছি না।
---এসব নিয়ে পরে কথা বলিস। আজকে তো আনন্দ কর।
---শালা। হওয়া বিয়ের আবার কিসের আনন্দ?
---আরে পাগলা চারিদিকে দেখ কত সুন্দরী মেয়ে। এদের সাথে একটু মজা করবো কি না আর তুই ওসব চিন্তা নিয়ে পরে আছিস।
---লুইচ্চা। খাড়া তোর গার্লফ্রেন্ড কে বলতেছি।
---ভাই তোর পায়ে ধরি এসব ওরে বলিস না।
---বলবো না এক শর্তে।
---কি শর্ত?
---আমার জন্য দুটা বেনসন সিগারেট নিয়ে আসবি।
---এতো ভালো হলি কবে থেকে?
---আজকে রাফির বিয়ে। এজন্য বিশেষ ছাড় দিছি। আর বেশি কথা না বলে সিগারেট আন।
আকাশ সিগারেট আনতে গেল। আমি একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লাম।
একটু পর আকাশ সিগারেট নিয়ে আসলো। কিন্তু বলদ দিয়াশলাই আনে নি।
এখন আগুন কই পাবো? এতো বাড়ি ভর্তি লোক। ধুর এতো টেনশন করছি কেন? এখানে কেউ তো আমাকে চিনে না।তাহলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
রাফির রুমে গিয়ে দেখি বেচারা পাঞ্জাবি পড়ছে। ইচ্ছে হচ্ছে ওরে কিছুক্ষণ কাতুকুতু দেই। কিন্তু আরও মানুষ আছে। তাই কাতুকুতু দিতে পারলাম না।
রাফিরে ইশারায় বললাম,"আগুন পাওয়া যাবে?"
ও বলল,"কিচেনে আছে। তবে সাবধান। আম্মু আছে মনে হয়।"
আমি কিচেনে গিয়ে দেখি কেউ নাই। ম্যাচ টা পকেটে পুরে ছাদে আসলাম। যাক এখানে কেউ নাই। শান্তি মতো সিগারেট খাওয়া যাবে।
সিগারেটে আগুন ধরিয়ে দুটা টান দিতেই মনে হলো কেউ আসছে। পেছন ঘুরে দেখি কয়েকটা মেয়ে। দেখতে মাশাআল্লাহ। কিন্তু একটাকেও চিনি না।
ধুর এদের কে ভয় পেয়ে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করবো এটা হতে পারে না। তাই ওদের সামনেই সিগারেট টান দিতে লাগলাম।
আহ! কি মজা।
এমন সময় একটা মেয়ে বলে উঠলো,"এই যে মিস্টার এতোগুলা মেয়ের সামনে সিগারেট খেতে লজ্জা করে না আপনার?"
আমিঃ আমার টাকায় সিগারেট খাচ্ছি এখানে লজ্জা পাওয়ার কি আছে!
মেয়েটিঃ আপনি আমার সামনে সিগারেট খেতে পারবেন না।
---আপনার সহ্য না হলে চলে যান। এতো ভাব নেওয়ার কি আছে!
---ওই আমি ভাব নিতে লাগলে আমার পিছে তোর মতো ছেলের লাইন লেগে যাবে।
---হ জানি তো। কম দামী পন্যের কাস্টমার বেশি।
---মেয়েটার এক বান্ধবী বলল,"আরে সিমা তুই এই ছোটলেকের বাচ্চার সাথে এতো কথা বলছিস ক্যান? চল এখান থেকে।
আমাকে যা ইচ্ছে বলুক। কিন্তু কেউ আমার মা বাবা কে নিয়ে বাজে কথা বললে আমার সহ্য হয় না। আর এই মেয়েকে ছাড় দেওয়া কোনো মতে সম্ভব না।
মেয়েটার সামনে গিয়ে ঠাসস করে দুগালে দুটা থাপ্পড় দিয়ে বললাম,"নেক্সট টাইমে কাউকে কিছু বলার আগে ভেবে কথা বলবি। আর এমন কিছু করার আগে আমার থাপ্পড়ের কথাটা অবশ্যই মনে থাকবে। আর হ্যাঁ আমার আশেপাশে যেন তোকে না দেখি।"
আমার থাপ্পড় দেওয়া দেখে সবাই অবাক হয়ে গেছে।
আর মেয়েটা দু গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি আর কিছু না বলে ওখান থেকে চলে আসি।
---আকাশ বলল,"এতোক্ষণ কই ছিলি?"
আকাশ কে সব কিছু খুলে বললাম। ও সব শুনে বলল,"ঠিক করেছিস।"
একটু পর মাইক্রোবাসে তে করে চললাম মিমদের বাড়ির দিকে। আধা ঘন্টা র মধ্যে পেয়ে গেলাম।
আমাকে বরের মাইক্রোবাসে থেকে নামা দেখে মিমের ভাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। হয়তো ভাবছে এ বরের মাইক্রোবাসে আমি কেন?
আকাশকে সাথে করে নিয়ে ঘুরতে লাগলাম। একটু পর খেতে দিলো।
খাওয়ার কিছু ক্ষন পর রাফি আর মিমের বিয়ে পড়ানো হলো।
এরপর বর বউ নিয়ে চলে আসা হলো।
আমি রাফির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। রাত হয়ে গেছে।
তিথীর কথা মনে পড়লো। ও কি যেন বলতে চেয়েছে।
তিথীকে কল করলাম।
---হ্যালো বিথী, কোথায় তুমি?(আমি)
---বাসায়, কেন?
---সকালে কি যেন বলতে চাইছো?
হ্যাঁ, কিন্তু তুমি তো অনেক বিজি।
---বললাম তো রাফির বিয়ে। আচ্ছা এক কাজ করো, তোমার বাসায় ছাদে আসো। আমিও ছাদে আসছি।
---তিথী বলল,"আচ্ছা।"
ড্রেস চেঞ্জ করতে লাগলে দেরী হবে। এরচেয়ে এই অবস্থায় যাই।
ছাদে গিয়ে ফোন টিপতে লাগলাম। একটু পর তিথী আসলো।
আশেপাশের বাসা থেকে লাইটের আলো আসছিল। সেই আলোতে তিথীকে দেখলাম। বড্ড মায়াবী লাগছে। ইচ্ছে হচ্ছে জড়িয়ে ধরে বলি ভালোবাসি, অনেক ভালোবাসি।
আমি বললাম,"তিথী তোমাকে আমার কিছু বলার আছে।"
---তিথী বলল,"আগে আমার কথা শোনো। তারপর তোমার কথা বলো।"
---আচ্ছা বলো।
---আমি জানি তুমি আমাকে পছন্দ করো। আমিও তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমি আমার বোনকে আমার নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি। ওর কষ্ট আমি দেখতে পারবো না।আমার বোনটা তোমাকে অনেক ভালোবাসে। বলো কখনও ওকে কষ্ট দিবে না।
আমি তিথীর কথা শুনে থ হয়ে দাড়িয়ে রইলাম। তিথী আমাকে এতোটা শক দিবে ভাবতেও পারি নি। ওর চোখ ছলছল করছে। মনে হচ্ছে এখনি বাঁধ ভেঙে অঝোর ধারায় পানি নামবে।
তিথী আমাকে কান্না ভেজা কন্ঠে বলল,"কি হলো কথা দাও আমার বোন কে সারাজীবন ভালোবেসে যাবে।"
---তিথী তোমার মাথা ঠিক আছে তো? নিজের ভালোবাসা কখনও এভাবে বিলিয়ে দেয়?
---আমার বোনের জন্য সব করতে পারি।
কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি বিথীকে ভালোবাসতে পারবো না।
---আমার জন্য তোমাকে পারতে হবে।
---পাগলামি বাদ দাও।
---আমি পাগলামি করছি না। সবকিছু ভেবেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এমনকি আব্বু আম্মুকে ও বলছি তোমার আর বিথীর কথা। উনারা রাজি হয়েছে।
---তুমি এতোবড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাকে জানাতে পারতে।
---বিথী তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে। এরচেয়ে তোমার কি চাই?
---শুধু ওর ভালোবাসা হলে তো চলবে না। আমারও তো ওকে পছন্দ হতে হবে।
---অনিক প্লিজ আমার রিকুয়েষ্ট টা রাখো। তাহলে বুঝবো তুমি আমাকে সত্যি ভালোবাসো।
তিথী কান্না করতে লাগলো।
আমি বললাম,"তিথী তুমি আমাকে এমন রিকুয়েষ্ট করতে পারো না যে যেটা করতে লাগলে নিজের ভালোবাসা হারাতে হবে। আমি এমন রিকুয়েষ্ট রাখতে পারবো না।
তিথীর কান্না বেড়েই চলেছে। আচমকা তিথী আমাকে জড়িয়ে ধরলো.....
চলবে.......।
No comments