গল্প | বড়িওয়ালীর মেয়ে - পর্ব-২০ (শেষ) | Bariwalir Meye - Part-20 (EnD)

লেখা | অনিক হাসান

১৯ তম পর্বের পর থেকে.......


ছেলেটার কথা শুনে রাগ উঠে গেল। মেরে দিলাম ওর নাক বারাবর এক ঘুসি। ছেলেটা নাক ধরে বসে পড়লো। আমি ছেলেটাকে এলোপাতাড়ি লাথি দিয়েই যাচ্ছি। এমন সময় ঠাসসস ঠাসসস করে আমার গালে কে যেন থাপ্পড় দিলো।চোখ তুলে দেখি আমার সামনে তিথী দাঁড়িয়ে আছে।


তিথীঃ তোর সাহস কি করে হয় আমার বয়ফ্রেন্ড কে মারার?ছোটলোকের বাচ্চা কোথাকার। আর কখনও আমাদের আশেপাশে যেন না দেখি। 


একে তো আর ভালোবাসে না। তার উপর আব্বু আম্মুকে ছোটলোক বলে আমার রাগ আরও বাড়িয়ে দিলো। ঠাসস ঠাসস করে থিথীকেও দুটা থাপ্পড় মেরে দিলাম।


---তোকে ভালোবাসাই আমার ভুল হয়েছে। তোর মতো মেয়েদের জন্য ছেলেরা কষ্ট পায়। আর যে সত্যিকারে ভালোবাসে তাকেই বুঝতে পারি না। কিন্তু আমি আর সে ভুল করবো না। আজই গিয়ে তোর বোনের সাথে বিয়ের কথা বলবো। থাক তোর বয়ফ্রেন্ড কে নিয়ে বলে ওখানে থেকে চলে আসি।


রাফিঃ কি দরকার ছিল তিথীকে মারার?


---মারবো না তো কি করবো? কিছুদিন আগেই ওর জন্য বিথীকে ভুল বুঝি। কিন্তু দেখ ও আমাকে সত্যিকারে ভালোবাসে। ওর মতো মেয়েকে এমনি এমনি ছেড়ে দিলে ভুল হবে। 


আকাশঃ আচ্ছা বাদ দে ওসব। এখন বাসায় চল। তোর মাথা ঠিক নাই। কখন কি করে ফেলবি ঠিক নাই। তারচেয়ে আমি তোকে নামিয়ে দিয়ে আসি।


রাফিঃ তা ঠিক বলছিস। ওরে নামিয়ে দিয়ে আয়। আমি গেলাম।


রাফি চলে গেল। আমি আকাশের বাইকের পেছনে বসলাম। ও চালাতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ পর বাসায় সামনে নামিয়ে দিয়ে যায়।


বাসায় এসে দেখি আম্মু আর বিথী বসে গল্প করছে। কি মিলরে বাবা। বিথী আমাকে দেখেই চোখ মারলো। কিন্তু আম্মু কিছুই বুঝতে পারলো না। এখন কিছু বললে আবার ঝগড়া লাগিয়ে দিবে। তারচেয়ে রুমে গিয়ে শুয়ে থাকা ভালো।


রুমে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে শুয়ে পরি। আম্মু এসে বলল,"খেতে আয়।"


খেতে লাগলাম। দেখি আজকে তরকারির স্বাদ ভিন্ন। তবে খারাপ লাগছে না।


আম্মুকে বললাম,"মা আজকে অন্যরকম রান্নার স্বাদ লাগছে।ব্যাপার কি?"


আম্মুঃ হুমম আজকে নতুন স্টাইলে রান্না হয়েছে। বল কেমন লাগছে খেতে?


----হুমম সুন্দর হয়েছে।


আম্মুঃ দেখতে হবে তো কে রান্না করছে।


----হিহি আমার আম্মু রান্না করছে।


আম্মুঃ ওই না বিথী রান্না করছে।


---কিহ! বিথী কবে থেকে রান্না করা শিখলো? 


---তুই যখন কমায় ছিলি তখন ওকে রান্না শেখাইছি। আসলে মেয়েটা তোকে অনেক ভালোবাসে তাইনা।


---কেমন করে বুঝলে আমাকে ভালোবাসে?


---তুই যখন কমায় ছিলি তোর পাশে বেশির ভাগ সময় বিথী থাকতো। আমাকেও অতো থাকতে দিতো না। তাছাড়া ওর চোখ দেখেই বোঝা যায় ও তোকে অনেক ভালোবাসে। ওকে আমার বউমা করে আনবো যে কবে?


---তাহলে দেরী করছো কেন?


---হারামি তোর জন্য তো সবকিছু তে গন্ডগোল পেকে গেছে।তা না হলে কবে এই বাড়ির বউ হতো!


---হুমমম তা ঠিক।


---আচ্ছা আমি বিথীর আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলে বিয়ের দিন ঠিক করছি।


আম্মু চলে গেল। খাওয়া শেষে রুমে আসলাম।


রাতে আম্মু বলল,"সাতদিন পর তোর আর বিথীর বিয়ে। তোর সব বন্ধু দের দাওয়াত দিস।"


আমি ফোন করে আকাশ আর রাফিকে সুসংবাদ টা দিলাম।

রাতে শুয়ে আছি। এমন সময় বিথী কল করলো।


হ্যালো....(আমি)


---এইযে মিস্টার হবু বর কি করছেন শুনি? ((বিথী))


---একজনের কথা ভাবছি।


---কে সে?


---তোমাকে বলবো কেন?


---না বললেন। তবে শোনেন আমাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে নিয়ে ভাবা যাবে না বলে দিলাম।


---ভাবলে কি করবে শুনি? 


---গুলি করে মেরে ফেলবো। তারপর আমিও মরে যাবো।


---এহ শখ কত আমাকে মারবে!


---হিহি বাসর রাতে মজা দেখাবো।


---তা কি মজা শুনি? 


---বললে তো সব কিছু আগেই জেনে ফেলবেন।


---কি বুদ্ধি রে বাবা।


---দেখতে হবে না আমি কে?


---হিহি, আমার বউ।


---এই শোনেন না?


---কি গো বলো।


---একটু ছাদে আসেন প্লিজ।


---এখন ছাদে গিয়ে কি করবো?


---আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। প্লিজ আসেন।


---রাত ১১ টা বাজে।


---না আসলে কিন্তু আমি কান্না করবো।


----থাক আর কান্না করতে হবে না। আমি আসছি।


ছাদে গিয়ে দেখি বিথী দাঁড়িয়ে আছে। এতো রাতে পাগলামি করো কেন?


---আপনার সাথে পাগলামি না করলে কার সাথে পাগলামি করবো শুনি? 


---তা ঠিক বলছো।


---হুমমম, আমি ঠিক ই বলি। আচ্ছা শোনেন আপনার জন্য নুডলস রান্না করে আনছি। খেয়ে নেন।


এমনিতেই আমার নুডলস ফেভারিট। তাই দেরী না করে চামচ দিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। আমি খাচ্ছি আর বিথী দাঁড়িয়ে দেখছে। হয়তো রান্না করে সবটুকুই আমার জন্য আনছে।পাগলিটা মনে হয় নিজেও খায়নি। তাই ভাবলাম ওকেও খাইয়ে দেই। এজন্য বিথীকে বললাম,


---এই হা করো।


বিথী হা করলো আমি খাইয়ে দিলাম। এখাবে একবার আমি খাচ্ছি আরেকবার বিথীকে দিচ্ছি। খেতে খেতে বললাম, "দুপুরের রান্নাটা অনেক সুন্দর হয়েছিল। এতো সুন্দর রান্না করতে পারো জানা ছিল না।"


---আপনার আম্মু শিখিয়েছে।


একটু পর মনে হলো ছাদে কেউ আসছে। বিথী মনে এখনও টের পায়নি। পাশের বাসা গুলো থেকে আশা আলোতে দেখলাম তিথী আসছে। শয়তান মহিলাকে দেখে রাগ হচ্ছিল। কিন্তু রাগ সংবরণ করে বিথীকে বললাম, "উফফ ঝাল লাগছে। পানি দাও।"


---এখানে পানি তো আনি নি।


---তাহলে আমি কি ঝালে মারা যাবো?

আরকিছু না ভেবে বিথীর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলাম। প্রায় দুই মিনিট পর ছেড়ে দিলাম। বিথী হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,"রাক্ষস একটা। এভাবে কেউ কিস করে নাকি?


---আমি কি করবো? ঝাল লেগেছিল তো। তোমার থিউরি মতো ঝাল কমালাম হিহি।


---কই ঝাল ছিল? নাকি এটা কিস করার বাহানা ছিল?


---হিহি, যেটা মনে করো।


আমি আগে থেকেই খেয়াল করছি তিথী এসবকিছু দেখেছে।ওরে দেখানোর জন্য ই বিথীকে কিস করছি। ও হয়তো ভাবছিল ও আমি প্রেমে ব্যার্থ হয়ে দেবদাস হয়ে যাবো। কিন্তু আমি সেই টাইপের ছেলে না। একটা ফালতু মেয়ের জন্য নিজের লাইফ নষ্ট করার মতো বেকামি করবো না।


আমি বিথীকে আস্তে করে বললাম,"তোমার বোন মনে হয় সব দেখে ফেলছে।"


---দেখলে দেখুক তাতে আমার কি।


---এই না হলে আমার আমার বউ। আচ্ছা শোনো এখন এখান থেকে চলো।


আমি বিথীর হাত ধরে নিচে চলে আসলাম। তিথী এসব দাঁড়িয়ে দেখলো।


আস্তে আস্তে বিয়ের দিন চলে আসলো। আজকে বিয়ে।অল্পকিছু আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতি তে আমার আর বিথীর বিয়ে সম্পন্ন হলো।


রাত অনেক হয়ে গেছে। প্রায় ১২ টা বাজবে। আকাশ আর রাফি বলল,"এতো ভয় পাওয়ার কি আছে। বাসরঘরে যা।"


---ওই শালা আমি ক্যান ভয় পাবো?


---তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? যা বাসরঘরে।

এরপর দুজন মিলে আমকে আমার রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল,"বিড়াল মারতে ভুলিস না কিন্তু। নাহলে কিন্তু পরে পস্তাতে হবে।"


ধুর, এখন বাসর রাতে বিড়াল কই পাবো?


রুমে ঢুকেই অবাক হয়ে গেলাম।এটা কি আমার রুম নাকি ভুলে অন্য কোথাও ঢুকে ফেলছি?


---ওই মিস্টার এভাবে কি দেখছেন?


---আমার রুম এতো সুন্দর হলো কিভাবে? 


---হিহি ওটা আমার কারণে।


বিথী বড় ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। আমি ওর পাশে গিয়ে বসলাম। এরপর ওর ঘোমটা তুলে অবাক হয়ে গেলাম। এতো সুন্দর লাগছে বিথীকে। আমি কিছুক্ষণ চেয়ে রইলাম। বিথী লজ্জা পেয়ে বলল,"এভাবে কি দেখছেন? 


---একটা পরীকে। জানো আমি কখনও পরী দেখিনি। দেখলে অবশ্যই বলবো তোমাদের চেয়ে আমার বউ বেশি সুন্দরী। 


বিথী প্রশংসা শুনে আরও লজ্জা পেয়ে গেল। এরপর বলল, "ধ্যাত, আমি অতো সুন্দর নাকি?"


---তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সেরা সুন্দরী। 


---হয়েছে আর পাম দিতে হবে না।


---এই নেমে আসো। দুজনে মিলে নামাজ পড়বো।


এরপর বাথরুমে গিয়ে আজু করে এসে বিথীকে সাথে নিয়ে দু রাকা'ত নামাজ আদায় করলাম।


এরপর বিথীর হাতে দেনমোহরের টাকা দিয়ে বললাম, "এই নাও তোমার দেনমোহরের টাকা।"


---বিথী টাকাগুলো আমার হাতে ফেরত দিয়ে বলল,"এ টাকা আমার চাই না। আপনি আমাকে সারাজীবন ভালোবেসে গেলেই আমি খুশি।"


আমি বিথীর কপালে একটা ভালোবাসা এঁকে দিলাম। বিথী আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল।


---এই পাগলি কান্না করছো কেন?


---এটা কষ্টের কান্না না এটা সুখের কান্না। ভেবেছিলাম আপনাকে কখনও ফিরে পাবো না। কিন্তু আল্লাহ ঠিকই আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।


---এই এখন কান্না থামাও। আমি বাসর করবো।


---অ্যাঁ আজকে রাতে ওসব হবে না। আমি এখনও প্রস্তুত না।


---আজকেই সবকিছু হবে। আর আমি তো আছি।


বিথীকে আর কোনো কথা বলতে দিলাম না। ওর ঠোঁটের উপর আমার ঠোঁট রেখে আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে লাগলাম সুখের সাগরে।


((এইযে পাঠক/পাঠিকারা।দেখতে পারছেন আমি বাসর করছি। তারপরও আপনারা চেয়ে আছেন। যান এখান থেকে।একটু শান্তিতে বাসর করতে দেন।))


❣️❣️❣️ সমাপ্ত ❣️❣️❣️

No comments

Powered by Blogger.