গল্প | বাড়িওয়ালীর মেয়ে - পর্ব-০৪ ◑ Bariwalir Meye - Part-04
লেখাঃ অনিক হাসান

৩য় পর্বের পর......👇👇👇👇
---খাবার টেবিলের দিকে তাকিয়ে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলাম। ভার্সিটিতে প্রপোজ করা মেয়ে এখানে কেনো?সাথে বসে আছে দুপুরের রাগিনী। দুজন আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেনো আমাকে আস্ত খেয়ে ফেলবে। মাথাটা কেমন যেনো গুলিয়ে যেতে লাগলো।
হঠাৎ আন্টি বলল, "আপনারা দড়িয়ে আছেন কেনো?চেয়ারে বসুন।
---জ্বি আন্টি আমরা বসছি।
---আম্মু বলল,"এরা দুজন নিশ্চই আপনার মেয়ে।"
---হ্যা, এরা দুজন আমাদের মেয়ে।
---তোমাদের নাম কি মা?
---জ্বি আন্টি আমার নাম তিথী আর ওর নাম বিথী।
---বাহ! ভারী মিষ্টি নাম। তোমাদের পড়াশোনা কতদূর?
---জ্বি আন্টি আমি আনার্স ১ম বর্ষে আর বিথী ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে।
---ভালো। তোমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই এ হলো আমার ছেলে অনিক।
---আন্টি বলল,"অনিক খুব ভালো ছেলে। আমি প্রথম দেখাতেই বুঝেছি।"
---ধন্যবাদ আন্টি।
---তিথী আর বিথীর দিকে চোখ পরতেই শক খেলাম। দু বোনই আমার দিকে গুন্ডী লুকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে আমাকে একা পেলে পিটিয়ে হাড়গোড় ভেঙ্গে দিবে। কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। কি করা যায়? আসলে বিপদের সময় কোনো বুদ্ধি মাথায় আসে না। এখান থেকে কেটে পরলে বাঁচা যায়। কিন্তু কিভাবে?
খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে আর কোনো কথা নয়।
এখান থেকে কেটে পরার বুদ্ধি একটা পেয়েছি।
---আন্টি আমি খেতে পারবো না।
---কেনো বাবা?
---আসলে আন্টি সন্ধ্যার সময় বন্ধুর বাসা থেকে খেয়ে আসছি।
---তো কি হয়েছে। আমি তোমার মতো থাকতে দিনে পাঁচ বার খেতাম। আর তুমি অল্প কিছু খেতে পারবে না?(আঙ্কেল বলল)
----কি বলবো ভেবে পেলাম না। আমার দিকে তাকিয়ে তিথী শয়তানি একটা হাসি দিলো। এই রকম অবস্থায় নিজেকে অসহায় মনে হতে লাগলো।
---কথা বলছো না কেনো? (আন্টি বলল)
---অল্প দিয়েন।
---আচ্ছা।
---তারাতারি খাওয়া শেষ করলাম। উঠতে যাব এমন সময় আন্টি বলল,"এখনি চলে যাবে?"
---হুম, কালকে ক্লাসে গুরুত্বপূর্ণ পড়া দিয়েছে। ওগুলো পড়ে শেষ করতে হবে।
---তুমি পড়ালেখায় কত মনোযোগী আর আমাদের বিথী একদমই পড়তে চায় না।
---ওকে ভালো শিক্ষকের কাছে পড়ান। চলি আন্টি।
---যাক বাবা কোনোমতে ওখান থেকে সরে আসতে পেরেছি। রাফিকে ফোন দেওয়া উচিৎ।
---হ্যালো রাফি কি করিস?
---এইতো শুয়ে আছি। তোর কন্ঠ এমন লাগছে ক্যান?
---আর বলিস না। ভার্সিটিতে যাকে থাপ্পর মারছিলাম ও আমাদের বাড়িওয়ালীর মেয়ে।
---বলিস কি? তোর তো এখন উভয় সংকট।
---এখন কি করব বল?
---তোর কেসটা জটিল। ওদের দু বোনকে মেরেছিস। ওর বাসার লোক জানতে পারলে তোদের বাসা ছাড়া করবে।আমার মতে তুই ওদের কাছে ক্ষমা চা। ওরা মাফ করে দিতে পারে।
---দোস্ত এ তুই কি বলছিস?
---হ্যা আমি ঠিকই বলছি। এই বিষয়টা নিয়ে নাড়াচাড়া করলে বাসার কেউ জানতে পারে। এতে তোর ক্ষতি বেশি হবে।
---আচ্ছা দেখি কি করা যায়।
---আচ্ছা, তবে আমার কথাটা একটু ভেবে দেখিস।
---ওকে, রাখলাম।
এখন কি করি? যদি মাফ না করে উল্টো থাপ্পর দেয় তাহলে মান সম্মান আর থাকবে না। আবার যদি আম্মু আব্বুর কাছে বলে দেয় তাহলে আমার উপর এতোদিনের বিশ্বাস সব শেষ হয়ে যাবে। কোন দিকে যাবো আমি?
সারারাত টেনশনে ভালো ঘুম হলো না। শেষরাতের দিকে ঘুম আসি। সকালে আম্মু নামাজ পড়ার জন্য ডাকা শুরু করলো। তারাতারি উঠে নামাজ পরলাম।
বাসার ছাদটায় গিয়ে আশপাশ দেখে হয়তো মনটা ভালো হতে পারে। তাই ছাদে চললাম। আশপাশটা ভালোভাবে পরিষ্কার হয়নি। এ এক অন্যরকম দৃশ্য। মনটা ভালো হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ পর পূর্ব আকাশে সূর্য আস্তে আস্তে বের হচ্ছে।
কারো ছাদে ওঠার শব্দে চমকে পিছন ফিরে তাকালাম।একটু পর ছাদের গেট ঠেলে বিথী প্রবেশ করলো।
---কেমন আছো বিথী?
---আপনি জেনে কি করবেন?
---এই মেয়েকে একটা থাপ্পর দিয়েও বাঁকা কথা সোজা করা গেলো না। আরও সোজা করার ইচ্ছা অবশ্য আছে।কিন্তু সেটা করতে গেলে কপালে দুঃখ আছে।
---কি ভাবছেন? আবার থাপ্পর মারবেন নাকি?
---(এ কি মেয়েরে বাবা! মনের কথাও বুঝতে পারে।) আসলে সেদিন রাগে তোমাকে থাপ্পর মেরেছিলাম। এজন্য তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। অবশ্য তুমি ক্ষমা না করে আমাকে থাপ্পর মেরে প্রতিশোধ নিতে পারো, আমি কিছু মনে করবো না।
---আপনি অপরাধ করেছেন। সেজন্য সাজা পেতেই হবে।তবে আপনার সাজাটা হবে একটু অন্যরকম।
---অন্যরকম করতে হবে না। তুমি থাপ্পর মেরে শোধ নাও।
---বলেছি তো আমি অন্যরকম প্রতিশোধ নেবো।
---তোমার অন্যরকম প্রতিশোধ কি শুনি?
---প্রতিশোধ তো নিতেই হবে। আপনি আমার বয়সে বড়।তাই আপনাকে মারবো না। আপনার শাস্তিটা হলো ১০ দিন সকালে ১০ বার করে আমার সামনে কান ধরে উঠবস করতে হবে।
---এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
---তাহলে আমি চললাম আম্মুর কাছে।
---এই দাড়াও।
---আবার কি হলো?
---শাস্তিটা একটু কম করা যায় না?
---না।
---প্লিজ একটু কম করো।
---আচ্ছা ১০ দিন থেকে কমিয়ে ৭ দিন দিলাম। এখন তারাতারি উঠবস শুরু করুন।
---চারিদিকে চেয়ে দেখি আশেপাশের বাসাগুলোর ছাদে কেউ নেই। চোখ বন্ধ করে উঠবস শুরু করলাম।
---এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ.........দশ। হয়েছে এখন থামুন।
---আমি উঠে দাড়ালাম। বিথীর দিকে তাকিয়ে দেখি ওর মুখে যুদ্ধ জয়ের হাসি।
---মেজাজটা বিগড়ে গেলো। মনে হচ্ছে থাপ্পর দিয়ে ওর হাসিটা বন্ধ করি। তা করলে আমার ১০ বার উঠবস করাটাই বৃথা যাবে। রাগে নিজের চুল ছিঁড়তে ইচ্চা করছে। বিথীকে কিছু না বলে ওখান থেকে চলে আসলাম।
---রুমে আসতেই মা বলল,পড়া বাদ দিয়ে এতোক্ষণ কোথায় ছিলি?
---ছাদে হাওয়া খেতে গেছিলাম। (রেগে বললাম)
---কি হয়েছে তোর? এমন করে কথা বলছিস কেনো?
---আমার কিছু হয়নি। এক গ্লাস পানি দাও। পানি খাবো।
----এই নে পানি।
---পানি খেয়ে গ্লাসটা ফেরত দিলাম।
---এই নে বাজারের ব্যাগ। তারাতারি বাজার করে নিয়ে আয়।
---ধুর আর ভালো লাগেনা।
---আজ সকাল থেকে তোকে অন্যরকম দেখছি? কি হলো তোর?
---মা আমার কিছু হয়নি, এখন টাকাটা দাও বাজারে যাই।
---এই নে টাকা।
বাজার করে বাসায় আসলাম। কিছুক্ষণ রেষ্ট নিয়ে গোসল করলাম। তারপর নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দশ্যে বের হলাম।
---নাহ, এমন এলাকায় বাসা নিছে সকালে রিক্শা পর্যন্ত দেখছি না। এদিকে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে। আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর একটা রিক্শা পেলাম। রিকশায় উঠে বসছি। এমন সময় পেছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে ডাক দিলো,"এইযে হবু বর।"
আমি ভাবলাম আমার বিয়ে ঠিক হয়নি। তাই আমি কারো হবু বর না। তাই রিকশাওয়ালা মামাকে বললাম," রিকশা চালান।"
রিকশা চলতে শুরু করলো।
মেয়েটি আবার ডাক দিলো এইযে আমার হবু বর অনিক,"আমাকে ফেলে একা চলে যেওনা।"
মেয়েটা আমার নাম বলে কেনো? মেয়েটাকে দেখার জন্য পেছন ফিরে তাকালাম। হায় আল্লাহ! আমার চোখ একি দেখলো? এতো তিথী।
চলবে.........
#banglastory143,
#bariwalir_meye_part_04,
#bangla_love_story,
#bangla_romantic_story,
#বাড়িওয়ালীর_মেয়ে
No comments