প্রিন্সের প্রতিশোধ - পর্ব-০৪ | Prince Revenge - Episode-04
গল্প | #প্রিন্সের_প্রতিশোধ ( #Prince_Revenge)
পর্ব | ০৪
লেখক | #রাকিব_হাসান_রাজ

আমি আর রিচি হোটেলে ফিরে গেলাম।
রিচি : তা আজকে অফিসে ইন্টারবিউ কেমন হলো?
আমি : ভালো হয়েছে। কিন্তু অফিসের বেশির ভাগ কর্মচারিই বেইমান।
রিচি : এমন কেন বললা?
আমি : কারন আমি যখন বললাম আমি বেতন কম নিব তখনি আমাকে চাকরিতে নেওয়া হলো। কালকে থেকে অফিস। ওহহ আরেকটা ব্যাপার আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছে।
#prince_revenge_episode_04
#bangla_story_143
রিচি : কি ব্যাপার?
আমি: মনে আছে গত কালকে যে একটি মেয়েকে থাপ্পড় দিয়েছিলাম?
রিচি : কোন মেয়ে?
আমি : আরে গত কালকে পার্ক এ!
রিচি : হ্যা মনে পড়েছে।
আমি : সেই মেয়ে আমাদের অফিসেই চাকরি করে। আর সেই মেয়ের আন্ডারে আমাকে কাজ করতে হবে। মেয়েটি বড়ই অদ্ভুত।
রিচি : গতকাল কেই বুঝেছি মেয়েটি অদ্ভুত। আজকে কি কোন প্লান আছে?
আমি : না আজকে তেমন প্লান নেই। প্লান শুরু হবে কালকে থেকে। কালকে থেকে ওই ০৪ জনের কাল হয়ে যাব আমি।
রিচি : তা সারাদিন আমি কি করব?
আমি : তুই তোর পড়ালেখা চালিয়ে যাবি আর তোর কলেজে এডমিশন নিবি। আর তুই তো বলছিলি তোর বন্ধু দের থেকে ইনফরমেশন কালেক্ট করবি?
রিচি : হ্যা সব করব কিন্তু কালকে থেকে। কালকে আমার সেই বন্ধুর জন্মদিন তাই পার্টি আছে। সেইখানে ইনফরমেশন নিব।
আমি : ঠিক আছে চল আজকে শহরটা ঘুরে বেড়াই না জানি চিরচেনা এই শহরটা কতোটুকু পাল্টে গেছে।
রিচি : ঠিক আছে চলো।
#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-০৪
#prince_revenge_episode_04
#bangla_story_143
তারপর আমি আর রিচি একটি ক্যাব বুক করে পুরো শহরটা ঘুরে দেখলাম।
২০ বছরে অনেকটাই পাল্টে গেছে শহরটা।
পরেরদিন সকালে,
রিচিকে তার কলেজে নামিয়ে দিয়ে আমি অফিসে গেলাম।
অফিসে ঢুকতেই কারো সাথে ধাক্কা খেলাম।
ঠাসঠাস্ ঠাসঠাস্ এবার আমার গালেই পড়ল। আমার সাথে আর কারো ধাক্কা হয়নি বরং জান্নাত মেমে এর সাথে ধাক্কা টা লেগেছে।
জান্নাত : এই ছোট লোকের বাচ্চা অফিসে ভালো করে চলতে পারছ না। অফিসের প্রথম দিনেই তোর লুচ্চামি দেখাচ্ছস?
আমি : সরি ম্যাম। আমি ইচ্ছে করে ধাক্কা দিইনি।
জান্নাত : আবার মুখে মুখে কথা বলছ?
সিনিয়র দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তোর বাবা মা শিখায়নি?
বাবা মায়ের কথা শুনেই মনটা খারাপ হয়ে যায় আর মাথা টা রাগে ফেটে যাচ্ছে। কারন জান্নাত শুধু পোস্ট এ ই সিনিয়র বয়সে আমার থেকে অনেক ছোট।
জান্নাত : কিরে আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি নাকি?
আমি: ম্যাম আমার বাবা মা নেই আমি অনাথ।
জান্নাত কথাটা শুনে চলে গেল একবার ও পিছনে ফিরে তাকাল না। পুরো অফিসের সামনে আমার অপমান হলো।
#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-০৪
#prince_revenge_episode_04
#bangla_story_143
আমার তাতে কিছু জায় আসেনা। কারণ আমার মতলব অন্যকিছু।
শফিক আমার কলিগ : কিছু মনে কইরনা ভাই জান্নাত মেম এমনি তার বাইরের টা শক্ত হলেও ভিতরটা নরম। চলো তোমার যায়গা তোমাকে দেখিয়ে দেই।
আমি : হুম চলো।
আমি আমার কাজ ভালোই করছিলাম। কিছু না বুঝলে কলিগরাতো আছেই।
তবুও জান্নাত মেম এর সাথে কথা বলিনি। আমি সময় বুঝে আমার গলার লকেটে থাকা প্রেনড্রাইভ দিয়ে অফিসের সকল ইনফরমেশন কপি করে নিই।
লাঞ্চ টাইম,
আমি অফিসের ক্যান্টিন এ বসে আছি।
শফিক : কি ভাই এভাবে বসে আছো যে খাবার খাবেনা?
আমি : হুম অর্ডার দিয়েছি।
শফিক : আমি কি এখানে বসতে পারি?
আমি : কেনো নয়, বসো।
তারপর ২ জনে অনেক কথা বললাম। শফিক অনেক ফ্রি মাইন্ডের। এখন আমরা ভালো বন্ধু। এখন ০২ জন ০২ জনকে তুই করেই বলি।
অফিসের ছুটির সময়,
এখন এই ফাইল আমাকে জান্নাত মেম এর কাছে পৌছে দিতে হবে।
#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-০৪
#prince_revenge_episode_04
#bangla_story_143
আমি : মেম, আমি আসতে পারি?
জান্নাত : জি আসেন?
আমি : আসলে এই ফাইল এর কাজ কমপ্লিট হয়ে গেছে।
জান্নাত : ফাইল টেবিলে রাখো।
আমি ফাইল টেবিলে রেখে চলে যাচ্ছিলাম তখনি মেম আমাকে ডাকল।
জান্নাত : আই এম রিয়েলি সরি।
আমি : সরি কিসের জন্য মেম?
জান্নাত : আসলে সকালে আমার এমন করে কথাটা ঠিক হয়নি।
আমি : ইট'স ওকে মেম।
জান্নাত : আসলে আমি জানতামনা যে আপনি অনাথ? আসলে আমারো এই দুনিয়ায় কেউ নেই তাই আমি বুঝি অনাথের কষ্ট কি?
আমি : মেম আমিও সরি। আসলে সেইদিন পার্কের ব্যাপার টার জন্য আমি গিলটি ফিল করতাছি।
#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-০৪
#prince_revenge_episode_04
#bangla_story_143
জান্নত : সেই ব্যাপার টা তো আমি কবেই ভুলে গেছি। এখন যান আমার কাজ আছে।
আমি বের হলাম। ভাবলাম মেয়েটি তেমন খারাপ না যেমন ভেবেছিলাম ।
অফিস থেকে হোটেলে গেলাম। আজকে রিচির সাথে তার বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গেলাম।
চলবে,,,,,,,,,,
No comments