অফিসের দেমাগি বস - পর্ব- ১৩ | Officee demagi boss -Part -13
অফিসের দেমাগি বস ❤️
লেখক : অভি আহমেদ রাজ
পর্ব : ১৩
মেঘা : তুমি এখন কেয়া আপুকে বিয়ে করো..
আমি : What the **** ...(মেয়ে বলে কি? মাথার সমস্যা হইছে নাকি? নিজের বরকে বলতেছে অন্য মেয়েকে বিয়ে করতে৷)
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৩
#Officer_Demagi_Boss_Part_13
#banglastory143
মেঘা : কি?
আমি : মাথার তার কি ছিড়ে গেছে তোমার?
মেঘা : না যা বললাম ঠিকি বললাম৷ চলো বিয়ে করবে৷
আমি : পাগল নাকি? কেও কি তোমার মাথায় আঘাত করেছে নাকি যে উল্টাপাল্টা বকছো?
মেঘা : যা বলছি সব ঠিক আছে৷ আর আমিও ঠিক আছি।
আমি : মজা করোনা এখন মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু। (সত্যিই রাগ উঠে গেছে ওর কথায়)
মেঘা : চুপ চলো ড্রেস চেঞ্জ করবে৷ সময় বেশি নেই চলো।
আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারলাম না৷
ঠাসসসসসসসসসস
একটা থাপ্পর মেরে দিলাম মেঘার বাম গালে৷ রাগে আমার হাত পা কাঁপছে এখনো৷ কি বলে এইসব ও? কোন মেয়েটা তার স্বামীকে বলবে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করতে বলুন তো৷ কোন মেয়েটাই বা চাইবে সতীনের ঘর করতে? আজব ব্যাপার এর..
মেঘা : হুম রাগ কমলো? এখন চলো..
আমি : আবার পাগলামি করোনা..
মেঘা : প্লীজ চলো ড্রেস চেঞ্জ করবে৷
এইবার পাগলিটাকে কাছে টেনে নিলাম৷ শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলাম৷ মেঘাও আমাকে জড়িয়ে ধরল খুব শক্ত করে৷
আমি : জান এমন করছো কেন? আমার ধৈর্য্যর পরীক্ষা নেওয়ার কতো ইচ্ছা সেটা অন্যভাবে নাও এভাবে না প্লীজ৷
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৩
#Officer_Demagi_Boss_Part_13
#banglastory143
মেঘা : দেখো জান আমি তোমাকে হারাতে পারবো না৷ প্রয়োজনে সতীনের ঘর করব তাও আমার কোনো ইচ্ছা নেই তোমাকে হারানোর৷ প্লীজ রাজি হয়ে যাও৷
আমি : এই ওয়েট ওয়েট হারাবে মানে? (ছেড়ে দিয়ে সামনে এনে বললাম)
মেঘা : হুম তোমাকে হারাতে পারবো না আমি৷
আমি : আজব তো? আমাকে কেন হারাতে যাবে হুম? তোমাকে ভালোবাসি তো আমি৷
মেঘা : হ্যাঁ জানি জান সেজন্যই তো তোমাকে হারাতে চাইনা৷
আমি : আচ্ছা কি হয়েছে বলো প্লীজ প্লীজ
মেঘা : শুনে কি করবে? আমার কথায় রাজি হও প্লীজ
আমি : না আগে বলোনা জান প্লীজ
মেঘা : আচ্ছা তাহলে শোনো..
এইবার শুনুন মেঘার কথা৷..
আমরা ওখানে বসে ছিলাম৷তখন তুমি উঠে চলে গেলা কোথায় যেন? আমি একা একা বসে ছিলাম ভালো লাগছিল না৷ তখন একটা মেয়ে এসে বলল স্যার মানে কেয়া আপুর বাবা আমাকে ডাকছেন এবং তার সাথে যেতে হবে৷
স্যার যেহেতু ডাকছেন তাই যেতে তো হবেই৷ আমিও গেলাম মেয়েটার সাথে একটা রুমে৷ যেয়ে দেখি কেয়া আপু লাল বেনারসি শাড়ী পড়ে বসে বসে কাঁদছে এবং ওর মা ওকে থামানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না৷ আর এদিকে স্যার মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে৷ আমি যেয়েই সালাম দিলাম৷ স্যার সালাম নিয়ে আমাকে বসতে বলল সোফায়৷ আমিও বসলাম..
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৩
#Officer_Demagi_Boss_Part_13
#banglastory143
স্যার : দেখো মা আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই৷
মেঘা : জ্বী স্যার বলুন সমস্যা নেই৷
স্যার : তোমার তো মা-বাবা কেউ নেই তাইনা?
মেঘা : না স্যার..(মন খারাপ করে)
স্যার : একটা কথা বলি?
মেঘা : জ্বী..
স্যার : সবার ই তো ২টা করে মা বাবা থাকে৷ একটা জন্মদাতার দিক আর অন্য শ্বশুড় বাড়ী৷ তাইনা?
মেঘা : জ্বী স্যার৷ কিন্তু আমার নেই😔 শুধু নীলের মা-বাবা আছে৷ আর তারাই আমার মা-বাবা৷
স্যার : দেখো মা আমি যদি তোমার বাবা হতে চাই আর আমার স্ত্রী তোমার মা হতে চাই৷
মেঘা : একি বলছেন স্যার..(প্রায় কেঁদে দিছে)
স্যার : দেখ মা তোর বাবা-মা নেই৷ আমরা তোর বাবা-মা হতে চাই৷ তাহলে সবার মতো তুইও ২টা বাবা আর ২টা মায়ের ভালোবাসা পাবি৷
মেঘা : ......(কোনো কথা না বলে নিরবে চোখের পানি ফেলছে)
স্যার : কাঁদিস না মা৷ তোকে কথা দিলাম কখনো তোর মা-বাবার কমতি বুঝতে দিবোনা৷
মেঘা : ...(ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে)
স্যার : প্লীজ মা না করিসনা৷ তাহলে আজ থেকে আমার তিন মেয়ে হবে৷ তুই তোর ছোট বোন আর কেয়া৷ আমার তিন রাজকন্যা৷
মেঘা : ...(এইবার জোরেই কেঁদে দিলো)
কেয়ার মা : কাঁদিস না মা৷ কি হয়েছে বল..(মেঘার কাছে এসে)
মেঘা : ......(কাঁদছে শুধু)
কেয়ার মা : আমাকে মা ডাক এবার..
মেঘা : ....(আবার জোরে কাঁদতে লেগেছে)
কেয়ার মা : চুপ কর মা..(মেঘাকে বুকে জড়িয়ে ধরে)
মেঘা : সত্যিই আপনারা আমার মা-বাবা হবেন?
স্যার : আচ্ছা মা তুই তো আমাকে সেই ৭-৮মাস আগে থেকেই চিনিস৷ জানিস তো আমি কেমন লোক৷ কখনো অফিসে কাউকে বকা দিতে বা খারাপ ব্যবহার করতে দেখেছিস?
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৩
#Officer_Demagi_Boss_Part_13
#banglastory143
মেঘা : উমম না..(ফুপিয়ে ফুপিয়ে)
স্যার : তাহলে? নিঃসন্দেহে আমাকে তোর মা-বাবা ভাবতে পারিস৷ কেয়াকে যতোটা ভালোবাসি কথা দিচ্ছি তোকেও ততোটা ভালোবাসবো৷
মেঘা : ....(ফুপিয়ে কাঁদছে)
কেয়ার মা : একবার মা বলে ডাক..
কেয়ার বাবা(স্যার) : ডাকনা একবার বাবা বলে৷
মেঘা : মা..
মা ডাকটা শুনেই কেয়ার মা মেঘাকে বুকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে৷ মেঘা ওনাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে৷ মনে হচ্ছে এখন সে আবার পরিপূর্ণ হয়ে গেল মা-বাবা পেয়ে৷
(এই হলো মেয়েদের সবচেয়ে বেশি দূর্বল জায়গা৷ একটুতেই ইমোশনাল হয়ে পড়ে৷ আর সবাই এটার ই ফায়দা উঠায়৷ তাই আপুদের বলছি যখন তখন ইমোশনাল হয়ে পড়বেন না৷ কথাটা মাথায় রাখবেন, আপনাদের সরলতাই আপনাদের প্রধান শত্রু৷...না মানে হুদাই একটু motivational হবার চাইলাম তাই আরকি)
কেয়ার বাবা : তা আমাকে বাবা ডাকবিনা নাকি?
মেঘা : হুম বাবা,,ডাকবো তো তোমাকেও।
কেয়ার বাবা : যাক মেয়েটা আমার হলো তাহলে৷ তা মা তোর বর মানে আমার জামাই বাবীজ কোথায়?
মেঘা : ওদিকে কোথায় যেন গেল৷
কেয়ার বাবা : ওহ আচ্ছা৷ যা তোর আপুর কাছে৷ কাঁদছে কেন শোন৷
মেঘা : মা, কেন কাঁদছে আপু?
কেয়ার মা : যা তুই নিজেই শোন৷ হয়তো ওকে তুই ই বাঁচাতে পারবি৷
মেঘা : মানে? বুঝলাম না তো৷
কেয়ার মা : তুই শোন যা না৷
মেঘা ওর মাকে ছেড়ে দিয়ে কেয়ার কাছে এসে সোফায় বসলো৷ কেয়া তখনো কাঁদছে৷ কিন্তু কেন কাঁদছে বিয়ের দিনে সেটা বুঝতে পারছেনা মেঘা৷
মেঘা : আপু কাঁদছো কেন?
কেয়া : ......(কেঁদেই চলেছে)
মেঘা : আপু কথা বলো কাঁদছো কেন?
কেয়া : .........(ফুপিয়ে কাঁদছে)
মেঘা : আপু বলো কি হয়েছে তোমার? আর তোমার বর কোথায়?
কেয়া : ও পালিয়েছে আমাকে বিয়ে করবেনা সেজন্য৷
মেঘা : কিহহহহহ? ওর এত্তো বড় সাহস৷ ওকে তো খুন করে ফেলবো৷
কেয়া : না ওকে আমার এমনিতেও পছন্দ না৷
মেঘা : তাহলে বলো কেমন ছেলে পছন্দ তোমার? এক্ষুনি আনছি৷
কেয়া : সত্যি? যদি বলি এনে দিবি?
মেঘা : হ্যাঁ আপু দিবো বলো তুমি
কেয়া : দে আমাকে কথা দে৷ তোর কথার পিছু পা হবিনা৷
মেঘা : হ্যাঁ আপু দিলাম কথা৷ আমি মরে যাবো তবুও তোমার কথা মতো ছেলে এনে দিবো৷
কেয়া : দে এনে দে তোর স্বামীকে৷
এই কথাটা শোনা মাত্র মেঘার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো৷ মনে হচ্ছে তার পুরো পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে গেলো৷ কিচ্ছু ভাবতে পারছে না৷ কতো বড় ভূল ওয়াদা করে ফেলেছে না জেনেই৷ চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল টপ টপ করে৷
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৩
#Officer_Demagi_Boss_Part_13
#banglastory143
কেয়া : বোন আমার...
মেঘা : .......(অন্যমনষ্ক হয়ে আছে৷ কোনো কিছুর খেয়াল নেই)
কেয়া : এই বোন বলনা..( হালকা ধাক্কা দিলো)
মেঘা : আপু এটা সম্ভব না৷ তুমি অন্য কিছু চাও।
কেয়া : প্লীজ বোন এমন করিস না৷
মেঘা : তোমার মাথা ঠিক আছে তো কি বলছো? তুমি আমার থেকে আমার প্রাণটা বের করে নিতে চাইছো৷
কেয়া : আমি তো তোর থেকে ওকে চাইনি৷ তোদের মাঝে একটু জায়গা দিস৷ সেখানেই থাকবো৷ বড্ড ভালোবাসি ওকে৷ তুই যখন ওকে চিনিসও না৷ তারও আগে থেকে৷ যখন আমরা ভার্সিটি পড়তাম তখন থেকে ওকে ভালোবাসি আমি৷ কিন্তু আমার দেমাগের কারণে হারিয়ে ফেললাম৷
মেঘা : কিন্তু এটা সম্ভব না৷ ওকে আমি কারো সাথে ভাগ করতে পারবো না৷
কেয়া : প্লীজ বোন..(হঠাৎ সোফা থেকে মেঝেতে বসে মেঘার পা ধরল)
মেঘা : আপু কি করছো এসব?
কেয়া : দেখ বোন৷ তুই যদি আমার কথা না শুনিস তাহলে আমি আত্মহত্যা করব৷ আর আমার মৃত্যু দেখে আমি নিশ্চিত যে আমার মা-বাবাও আর বেঁচে থাকতে পারবেনা৷ তারাও হার্ট এট্যাক করে মারা যাবে৷ তুই কি চাস আমার সামান্য আবদারের জন্য ৩টা প্রাণ চলে যাক?
মেঘা : এটা সামান্য আবদার মনে হচ্ছে?
কেয়া : কেন বোন? আমি তো তোর থেকে ওকে কেড়ে নিচ্ছিনা৷ তোদের সাথে একসাথে থাকতে চাইছি৷
মেঘা : আপু কি বলো এসব?
কেয়ার মা : দেখ মা আমার মেয়েটার কিছু হলে আমরা কি নিয়ে বাঁচবো বল৷ আমার মেয়েটার জীবন ভিক্ষা দে৷ (শাড়ীর আচল পেতে ধরে)
মেঘা : মা একি করছো? (আচলটা সরিয়ে)
কেয়ার বাবা : প্লীজ মা তোর কাছে ভিক্ষা চাইছি ওর জীবন৷ নীলকে না পেলে ও আত্মহত্যা করবে এটা আমাদের আগেই বলে দিয়েছে৷ (হাত জোড় করে বলছে)
মেঘা : না এমনটা করোনা৷ তোমরা আমার গুরুজন৷ এভাবে আমাকে পাপী বানিয়ো না৷ (কেয়ার বাবার হাত নামিয়ে)
কেয়ার বাবা : তাহলে বল তুই রাজি৷
মেঘা : পরে আপু যদি ওকে আমার থেকে কেড়ে নেয় তখন যে আমি মারা যাবো৷
কেয়া : বোন তোকে কথা দিচ্ছি যদি এমন করি তাহলে ওইদিন ই হবে আমার শেষদিন৷
মেঘা : এমন বাজে কথা বলোনা আপু৷
কেয়ার বাবা : মা তুই রাজি বলনা? (মেঘাকে বলল)
মেঘা : আমি যে ওকে হারাতে পারবো না৷
কেয়ার মা : না মা হারাবিনা৷ ভাববি তোর স্বামীর দুটো বউ৷ আর তোরা দুইজন বোন৷ কখনো সতীন ভাববি না তাহলে তোদের মাঝে কখনো বিচ্ছেদ হবেনা৷ কেয়ার আবদার শুনে প্রথমে খুব রাগ হয়েছিল কিন্তু ওর পাগলামির কাছে হার মানলাম আমরা৷
মেঘা : কিন্তু ও তো রাজি হবেনা..
কেয়ার বাবা : তুই বললে ঠিক রাজি হবে৷ কারণ তোকে ভালোবাসে ও৷ আর ওর বাবার নাম্বারদে৷ আমরা ওনার সাথে কথা বলব৷ আজ থেকে আমার ৩টা মেয়ে৷ আমি জানতাম মেঘা মা অনেক ভালো৷ (কথাটা বলে মেঘার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো)
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৩
#Officer_Demagi_Boss_Part_13
#banglastory143
মেঘা : আমি কিন্তু ওকে ছাড়া বাঁচবোনা৷
কেয়া : বোন তোকে আর ওকে কখনো আলাদা করব না আমি কথা দিলাম
মেঘা : তারপরে আবার কিছু কথা বলে চলে আসলাম তোমাকে বলতে৷ আমাকে ওরা তাদের মেয়ে বানিয়েছে তাদের কথা কি করে না করি?বলো...
আমি : আরে পাগলেও নিজের ভালো বোঝে৷ আর তুমি এটা কি করলে হ্যাঁ?
মেঘা : কেয়া আপু অনেক ভালো৷ আর মা-বাবাও অনেক ভালো৷ তুমি কি চাও না সবার তো আমিও মা-বাবার ভালোবাসা পাই?
আমি : ...... (ওরে ফুইন্নি রে৷ ওরা তোকে ঘোল খাইয়েছে তোর সরলতা দিয়ে৷ তবে আংকেল আন্টি ভালো এটা জানি৷ সব প্লান করে করা৷ সবকিছুর পেছনে একমাত্র হাত কেয়ার..মনে মনে বলছি)
মেঘা : কি হলো কি ভাবছো?
আমি : না কিছুনা৷
হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো৷ পকেট থেকে ফোন বের করে দেখি আমার পাপ্পা থুক্কু আব্বু কল দিয়েছে৷ রিসিভ করে সালাম দিলাম৷ সালামের উত্তর নিলো..
আমি : হ্যাঁ আব্বু বলো৷
আব্বু : ওখানে তো আমরা আসতে পারলাম না এখন তাই তোর বিয়ে দেখা হলোনা৷ তাই যা বিয়ে টা করে নে৷
আমি : কিহহহ? মাথা ঠিক আছে তো তোমার?
আব্বু : যা বলেছি কর৷ (রাগী গলায়)
আমি : আব্বু ওরা তোমাকেও ঘোল খাইয়েছে৷
আব্বু : বিয়ে যদি না করিস তাহলে তোকে তেজ্যপুত্র করব৷ আর মেঘা কেও এনে রেখো দিবো বাসায়..(একদম মাইনকা চিপায় ফালাই দিলো)
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৩
#Officer_Demagi_Boss_Part_13
#banglastory143
আমি : ফোন রাখো জামা পড়ব বিয়ের..(মাইনকা চিপায় পড়ার পরে)
আব্বু : গুড বয়৷
ফোন কেটে দিলাম৷ হায়রে বাপরে? বলে কি আরো একটা বিয়ে করতে৷ আমি একে তো ছোটমানুষ তার উপর দুটো বউ৷ কেমনে কি? আল্লাহ্...
মেঘা : ধরো জান যাও রেডি হও (একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিলো)
আমি : মনে যেন থাকে কথাটা৷
মেঘা : জান আমাকে ক্ষমা করো৷ না বুঝে অনেক কষ্ট দিয়েছি৷ তোমার আর কেয়া আপুর সেদিনের কথাটা আজকে শুনলাম৷ তোমার দোষ ছিলোনা৷
আমি : বাইরে যাও রেডি হবো৷
মেঘা : হুম
মন খারাপ করে বাইরে চলে গেল মেঘা৷
এইবার বুঝবা তোমরা আমি কি আর কেমন বিষ৷ খুব ইচ্ছা না সতীনের ঘর করার৷ করাচ্ছি ভালো মতো৷ আর কেয়া তোকে তো তিলে তিলে মারবো।
রাত ১১টার সময় ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেল৷ বর চেঞ্জ হয়েছে এই খবরটা শ্বশুড় মশাই কেমন করে জানি মাটি চাপা দিয়ে দিলো৷ আরো একটা কথা বলি৷ মেঘাকেও তখন আবার বিয়ে পড়ানো হলো৷..বাহ্ একসাথে দুই মেয়েকে বিয়ে করছি৷ এই না হলে পুরুষ মানুষ৷ (মাজাক কাররাহাহু ভাই)
আজকে আর ফ্লাটে যাওয়া হলোনা৷ শ্বশুড় বাড়িতেই নাকি বাসর রাত হবে৷ রুমও সাজানো আছে খুব সুন্দর করে৷
রাত ১২:৩০মিনিটে কোনো ভয়, ডর না করে দরজা খুলে সোজা রুমে প্রবেশ করলাম৷ তারপরে দরজা লক করে সামনে এগোতেই দেখি আমার দুই পরী থুক্কু বউ বসে বসে আমাকে নিয়েই গপ্পে মজে উঠেছে৷ আমাকে দেখেই দুইজন সালাম করতে আসলো তখন আমি যেয়ে সোফাতে বসলাম৷
আমি : এইসব পায়ে সালাম আমার পছন্দ না৷ আপনারা যেয়ে শুয়ে পড়ুন৷ খুব ক্লাম্ত লাগছে আমার৷ কেউ কোনো কথা বলবেন না একদম৷
কেয়া : আজকে না আমাদের বাসর রাত?
মেঘা : হ্যাঁ জান আর তুমি আপনি আপনি করছো কেন?
আমি : কিসের বাসর রাত হ্যাঁ? তো কি তুমি করে বলব?
কেয়া : হ্যাঁ ঠিকি তো
আমি : দোহায় লাগে আমাকে প্লীজ ঘুমোতে দিন৷ নয়তো নিজের ক্ষতি করবো আমি বলে রাখলাম৷
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৩
#Officer_Demagi_Boss_Part_13
#banglastory143
কেয়া : আচ্ছা জান ঘুমোও কিন্তু নিজের কিছু করবে না৷ কিন্তু খাটে তো চলো..
আমি : কেন খাটে যাবো কেন?
মেঘা : তোমাকে জড়িয়ে শুয়ে থাকবো যে তাই৷
আমি : ওখানে যেমন কোলবালিশ ধরে ছিলে তেমন করেই থাকুন৷
কেয়া : প্লীজ চলোনা জান পাখি..
আমি : আপনিও কোলবালিশ জরিয়ে শুয়ে থাকেন৷ বিরক্ত কইরেন না কেউ৷ প্লীজ হাত জোড় করছি৷
কেয়া : আচ্ছা রাগ করোনা যাচ্ছি৷
মেঘা : যাচ্ছি জান রাগ করোনা তুমি।
দুইজন ই মন খারাপ করে যেয়ে শুয়ে পড়ল৷ আমার রাগী ভাবমূর্তি দেখে আর কিছু বলল না৷ আমি সোফায় শুয়ে পড়লাম৷ হাসি পাচ্ছে দুইজন একই রকম কথা বলছে৷ হাহাহা৷ যাক এখন তাহলে ২জনের উপর ই রাগ ঝাড়তে পারবো৷ তবে এমন কষ্ট দিবো যে আমাকে ছাড়তে বাধ্য হবে৷ আমিও সেইরকম জিনিস।
সোফায় শুয়ে আছি৷ তখন কানটা একটু উঁচু করলাম৷ ওরা ফিসফিস করে কি যেন বলছে৷
কেয়া : এ কেমন বাসর রাত আমার?
মেঘা : আমার ওপর খুব রেগে আছে..
কেয়া : কেন কি করেছিস?
মেঘা : ওইযে তুমি ওকে ইয়ে করেছো তখন ওকে ভূল বুঝে অনেক কষ্ট দিয়েছি৷ সারাটা দিন বিস্কুট খেয়ে থাকতো আমি একা ভাত খেতাম ওকে ডাকতাম না তাই খেতেও না৷ প্রয়োজন ছাড়া কথা বলিনি৷ অথচ ও কথা বলার জন্য পাগল হয়ে থাকতো৷ (কাঁদছে আর বলছে)
কেয়া : কিহহহ ওকে এতো কষ্ট দিলি?(ভ্রু কুচঁকে)
মেঘা : আমার ভূল হয়ে গেছে আপু..(কাঁদার সুরে)
কেয়া : হ্যাঁ রে তোর থেকেও বেশি কষ্ট আমি ওকে দিয়েছি৷ না জানি আমাকে মানবে কি না?
মেঘা : না আপু ও অনেক ভালো৷ ঠিক মেনে নিবে৷
কেয়া : জানি রে বোন ও অনেক ভালো৷ লাখে ১টা৷ কিন্তু ওকে যে বিনা অপরাধে অনেক বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি৷
মেঘা : এখন তো মনে হচ্ছে আমরাই অনেক বেশি খারাপ৷
কেয়া : হুম ঠিক বলেছিস৷
ওরা আরো অনেক কথা বলছে৷ তবে আমার প্রশংসা শুনে ভালোই লাগছিল৷ কিন্তু একটা বিষয় মাথায় আসছে না৷ এত্তো সহজে এক সতীন আরেক সতীনকে মেনে নিলো কিভাবে? এরা তার ছিড়া নাকি আমার মাথার তার ছিড়ে গেছে কোনটা আল্লাহ্ ভালো জানে৷
ওদের কথা শুনতে শুনতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেও জানিনা৷ ফজরের আযানের সময় ঘুম ভাঙলো৷ তবুও একটু শুয়ে থাকলাম সোফাতে৷ সোফাতে শুয়ে থাকতে অবশ্য খারাপ লাগেনি৷ নরম জায়গায় শুয়ে আছি তাই ভালোই লাগছে৷
চোখ ডলতে ডলতে দাঁড়ালাম৷ আমি এমনই ছেলে৷ (চোখ ডলতে ডলতে দাঁড়াই তারপকে চোখ খুলি)৷ তো চোখ থেকে হাত সরিয়ে চোখ খুলতেই একটা শক খেলাম৷ শরীরে ৪৪০ ভোল্টের কারেন্ট বয়ে গেল৷ আর চোখ দুটো ছানাবড়া হয়ে গেল😵
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৩
#Officer_Demagi_Boss_Part_13
#banglastory143
♦♦♦
♦♦
♦
চলবে-----------------
.
লেখার ভূল ক্ষমার চোখে দেখবেন৷ 🙂😘
পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ৷😘😘

No comments