অফিসের দেমাগি বস -পর্ব-১৪ (শেষ) | Officer demagi boss -Part-14 (End)
অফিসের দেমাগি বস 🖤
লেখক : অভি আহমেদ রাজ
পর্ব : ১৪ [শেষ]
চোখ থেকে হাত সরিয়ে চোখ খুলতেই একটা শক খেলাম৷ শরীরে ৪৪০ ভোল্টের কারেন্ট বয়ে গেল৷ আর চোখ দুটো ছানাবড়া হয়ে গেল৷ কারণ এইটা তো কেয়ার বাসা না আর আমার ফ্লাটও না৷ আর আমি তো সোফায় শুয়ে ছিলাম৷ খাটে কি করে আসলাম৷ তাহলে কোথায় আমি?
সামনে একটা মেয়ে টাওয়াল পড়ে আছে আর মাথার পানি মুছছে৷ পেছন থেকে দেখেই শরীরে কেমন যেন বিদ্যুৎ বয়ে গেল৷ আমি ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম..ওমা এটা তো আমার নিজের বাসা৷ কিন্তু আমার তো বিয়ে হলো কেয়ার সাথে আর মেঘার সাথে৷ সেই মোতাবেক আমার তো এখন কেয়ার বাসায় থাকার কথা৷ কিন্তু এখানে এলাম কি করে? আর সামনে মেয়েটাই বা কে।
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৪(শেষ)
#Officer_Demagi_Boss_Part_14(End)
#banglastory143
আমি : Excuse me...
নেঘা : উঠেছো দুষ্টু৷ যাও গোসল করে নাও জলদি৷
আমি : মেঘা তুমি? (একদম বুকটা ধুক করে উঠল৷)
মেঘা : ওমা কেন আমাকে চিনতে পারছো না?
আমি : তুমি এখানে কেন?
মেঘা : তোমার কি মাথা টাথা পাগল হয়ে গেল নাকি?
আমি : না তো..(মাথায় হাত দিয়ে)
মেঘা : কালকে না আমাদের বিয়ে হলো?
আমি : বিয়ে? (মাথা চুলকিয়ে)
মেঘা : হুম রাতে তুমি কত্তো..ইসস দুষ্টু একটা৷ যাও বাথরুমে গোসল করে এসো৷
আমি : কিন্তু আমার সবকিছু এমন গুলিয়ে যাচ্ছে কেন?
মেঘা : ধ্যাত আবার দুষ্টুমি করতে চাইছো নাকি৷ (ভ্রু কুচঁকে)
আমি : না না তা না তো..(পাগলের মতো করে)..
মেঘা : তাহলে যাও জান তাড়াতাড়ি গোসল করে নাও
আমি : হুম..
মাথায় হাত দিয়ে চুলকানোর মতো করে বাথরুমে চলে আসলাম৷ তার মানে আমি এত্তোক্ষণ ধরে এত্তোবড় একটা স্বপ্ন দেখলাম? ওরে আল্লাহ্ কতো বড় বাঁচাই না বেঁচে গেছি৷ নয়তো দুই ডাইনী থুক্কু দুই বউয়ের অত্যাচারে মরতাম৷ বুকে ফুঁ দিয়ে নিলাম ভয়ে৷
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৪(শেষ)
#Officer_Demagi_Boss_Part_14(End)
#banglastory143
আস্তে আস্তে গতকালের কথা মনে করতে লাগলাম৷ ও হ্যাঁ ঠিক মনে হয়েছে৷ কাল রাতেই তো বিয়ে করলাম আমার এই পাগলিটাকে৷ কতোটা খারাপ একটা স্বপ্ন ছিলো৷ এক ঘুমে প্রায় ২-৩মাসের স্বপ্ন দেখা হলো বাপরে৷ তবে এটা কোনো সমস্যা না স্বপ্ন এর থেকেও দীর্ঘ হতে পারে৷ আল্লাহ্ বাঁচাইছে আমারে৷
কিন্তু সত্যি যদি এমন হয় তাহলে কি হবে? ..... [(হাহাহা লাগা লাগা? জোরকা ঝাট্কা লাগা না? হিহাহাহা৷হ্যাঁ আপনাদের ই বললাম যারা পুরোটা না পড়েই উল্টা কমেন্ট করছেন৷ পুরোটা না পড়ে আগে আগে বকবক করা ভালো না৷ পরের বার কথাটা মাথায় রাখবেন)]
এইসব আবোল তাবোল ভাবতে ভাবতে গোসল করে নিলাম৷ তারপরে দুইজনে একসাথে নামাজ আদায় করে আমি আল-কুরআন পাঠ করতে বসলাম আর আমার বউ রান্নাঘরের দিকে গেল৷
৯টার সময় খাওয়ার জন্য ডাক পড়লো৷ যেয়ে খাওয়া করে রুমে আসলাম৷
আমি : এই শোনো কিছু কথা আছে..
মেঘা : হ্যাঁ বলো কি কথা৷
আমি : শুনলে বিশ্বাস করবে তো?
মেঘা : হ্যাঁ জান বলো৷ তোমাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে পারবো৷
আমি : আমি না একটা স্বপ্ন দেখেছি৷
মেঘা : তা তো ভালো কথা।
আমি : না ভালো কথা না৷ অনেক বাজে একটা স্বপ্ন দেখেছি৷
মেঘা : কি স্বপ্ন জান বলোনা৷ আমার আর তর সইছে না৷
আমি : বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা৷ তবে পুরোটা বলছি শোনো..
সবগুলো কথা মেঘাতে বললাম ৷সবগুলো কথা শুনে মেঘা তো হেসে কুটকুটি৷ তবে একটু ভয়ও পেল৷ কারণ হঠাৎ বিয়ের পরই এমন স্বপ্ন কেন দেখলো? কোনো রহস্য আছে নাকি? যদি সত্যি সত্যি কেয়ার সাথে বিয়ে হয় তাহলে তো মেঘা আমাকে হারাবে৷
পাগলিটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো করে আমার কপালে, গালে, নাকে, ঠোঁটে চুমু দিতে লাগলো৷ আমি আবার কম নাকি..আমিও পাল্টা চুমু দিতে লাগলাম৷
হঠাৎ করেই আবার আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল৷
মেঘা : জান আমি তোমাকে হারাতে পারবো না৷ তুমি শুধু আমার৷ কোনো দেমাগি টেমাগি মেয়ের পাল্লায় পড়তে দিবো না তোমাকে।
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৪(শেষ)
#Officer_Demagi_Boss_Part_14(End)
#banglastory143
আমি : হিহিহি পাগলি৷ আমিও তোমায় খুব ভালোবাসি জান৷
মেঘা : তোমাকে যে কতোটা ভালোবাসি তা আন্দাজও করতে পারবেনা৷
আমি : জানি রে পাগলি৷ আর হুহ আমি বুঝি ভালোবাসি না?
মেঘা : হুম জান বাসো তো খুব৷ আমার সোনা বর৷
আমি : হুম আমার সোনা বউ৷
দুপুরে খাবার খেয়ে আমি রুমে এসে বসে আছি৷ তখন মেঘা আসল রুমে৷ আয়নার সামনে যেয়ে বসে চুল ছেড়ে দিয়ে চুলে চিরুনি করতে লাগল৷
অসম্ভব সুন্দর লাগছে মেঘাকে চুল ছেড়ে দেওয়ার জন্য৷ আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছিনা৷ মেঘার সব সোন্দর্য শুধু আমাকে টানছে৷ আর পারলাম না৷ উঠে মেঘার কাছে এসে ওর চুলে নাক ডুবিয়ে দিলাম৷ পাগল করা একটা কড়া সুগন্ধ আসছে স্যাম্পুর৷
আমি : কি গো? চুলে কি নেশা জাতীয় কিছু মেখেছো নাকি?
মেঘা : এই না ছিঃ কি বলছো?
আমি : তাহলে আমি মাতাল হচ্ছি কেনো জান বলোনা
মেঘা : যাহ পাজি কোথাকার৷ এতো লজ্জা দাও কেন হুম৷
আমি : কই লজ্জা তো এখনো দিই ই নি৷ তবে হ্যাঁ চুমু দিবো।
মেঘা : এই জান না না এখন না প্লীজ৷
আমি : উম্মাম্মাম্মাম্মাহ্ (মেঘার ঘাড়ে একটা ছোট্ট চুমু দিলাম)
মেঘা : উমমম জান কি করছো৷
আমি : উম্মাম্মাম্মাম্মাম্মাম্মাম্মান্মাহ্(আবার দিলাম)
মেঘা : উমমম যাও তো
আমাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল৷ লজ্জায় ওর গাল লাল হয়ে গেছে৷ দৌড়ে বাইরে যেতে লাগলো কিন্তু তার আগেই ওর হাত ধরে ওকে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরলাম৷ পাগলিটা লজ্জায় আমার বুকে মাথা লুকোলো৷ সত্যিই পাগলি একটা৷ কিন্তু আমি অনেক সৌভাগ্যবান ওর মতো একটা পাগলি বউ পেয়ে৷
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৪(শেষ)
#Officer_Demagi_Boss_Part_14(End)
#banglastory143
পরেরদিন বিকালে একটু বাইরে আসলাম৷ অনেক দিন এইসব জায়গায় ঘোরাফেরা করা হয়নি৷ বাইরে এসেই পরিচিত ২টা বন্ধুর সাথে দেখা৷ ওদের সাথেই অনেকটা সময় ব্যয় করলাম আড্ডা দিতে দিতে৷ কখন যে সন্ধ্যা নেমে গেছে আমরা কেউ ই বুঝতে পারিনি৷ আমি বাসায় যাওয়ার আগে ৩প্লেট ফুসকা কিনলাম৷ কারণ বাড়িতে তো ফুসকা খাওয়ার জন্য মেয়ের অভাব নেই৷
বাসায় যাওয়ার সময় হঠাৎ ফোনটা বেজো উঠল৷ আননোন নাম্বার থেকে কল করেছে কে যেন? কোনো কথা না ভেবেই রিসিভ করলাম৷
আমি: হ্যালো?.
.......
আমি : হ্যালো???...
..........
আমি : কি হলো? কথা বলছেন না কেন? কে আপনি?
.........
আমি : ঢং না করে পরিচয় দিনতো৷
..............
আমি : ধুর
ফোন কেটে দিলাম৷ হুদাই বিরক্ত করতে কল দেয়৷ কিন্তু কেমন জানি একটা খটকা লাগলো আমার৷ কারণ ওপাশ থেকে একটা মেয়ের চাপা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম৷ আর স্বরটাও কেমন জানি কেয়ার'র মতো লাগলো৷
যাইহোক আমার এসব ভেবে লাভ নেই বাসায় যেতে হবে৷ আমি তাড়াতাড়ি করে হেটে বাসায় চলে আসলাম৷ যখন বললাম যে ফুসকা এনেছি তখনই রিয়া আর মা ছিল৷ মেঘা ওদের সামনেই আমার গালে চুমু দিলো৷
চুমু দিয়েই লজ্জায় পড়ে গেলাম ২জন৷ মেঘা ভো দৌড় দিয়ে রুমে চলে গেল আর আমি লজ্জায় মাথা তুলতে পারছি না৷ মাথা নিচু করেই পা টিপে টিপে রুমে আসলাম৷
আমি : ওই ওটা কি করলো হ্যাঁ সবার সামনে?
মেঘা : উমমমমম (গাল ২টা লাল হয়ে গেছে)
আমি : পাগলি একটা৷ আম্মু কিছু বললে না আর যাও৷ এত্তো লজ্জা পেতে হবেনা৷
মেঘা : জানি জান মা কিছু বলবে না৷ তবে রুমে আসার প্রধান কারণ হলো তোমার লাল ঠোঁট দুটো৷
আমি : হিহিহিহি পাগলি একটা৷
মেঘা : চুমু দাওনা জান প্লীজ প্লীজ৷
আমি : না দিলে কি করবা?
মেঘা : জোর করে কিস করবো, এভাবে..
কথাটা বলা শেষ না হতেই পাগলিটা আমার ঠোঁট জোড়া ওর আয়ত্ব করে নিলো৷ খুব চুমু খাচ্ছো৷ আমিও খুব ভালো রেসপন্স করছিলাম৷ সেজন্য দুই স্বামী-স্ত্রী ই আরাম পাচ্ছি৷
একটু পরেই আমাকে ছেড়ে দিয়ে কোনো কথানা বলে আবার ভো দৌড় দিয়ে চলে গেল৷ আসলেই পাগলি একটা৷ আমিও মুচকি হাসি দিয়ে যেয়ে বসে পড়লাম৷
পরেরদিন বিকালে মাত্র বাসা থেকে বের হয়েছি তখনই ফোন বেজে উঠল৷ আজকের নাম্বারও অপরিচিত৷ কে রতে পারে? কোনো বন্ধু নাকি? এইসব ভাবতে ভাবতে কলটা রিসিভ করলাম৷
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৪(শেষ)
#Officer_Demagi_Boss_Part_14(End)
#banglastory143
আমি : হ্যালো?
কেয়া : আমি কেয়া...
আমি : আমি গুড৷ আমি ভাবলাম কে না কে৷ তা কেমন আছেন?
কেয়া : ভালোনা....তুমি?
আমি : ভালো না কেন কি হলো?
কেয়া : খুব বেশি বিরক্ত করতাম বুঝি তাইনা? সেজন্য চুপ করে বিয়ে করে নিলি৷..(মায়া জড়ানো কণ্ঠে)
আমি : না বিরক্ত কেন করতে যাবেন৷
কেয়া : হুম সেটাই৷ ভালো থাকিস, খুব ভালোবাসি তোকে৷ আর মেঘারও আবার চাকরী হয়েছে৷ বাই....টুট টুট টুট
আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই কল কেটে দিলো৷ তারমানে সেদিনের কল টাও কেয়া ই করেছে৷ বিয়ের খবর কেয়া জানলো কি করে? যাইহোক জেনেছে ভালো হয়েছে৷ এখন তো আমার সামনে কম আসবে৷ নয়তো সারাক্ষণ ঘুরঘুর করবে সে৷ কিছুটা মেন্টাল টাইপ আমার প্রতি৷
পরেরদিন রাতের বাসে গ্রামের বাসা থেকে চলে আসলাম আমার ফ্লাটে৷ ভোর বেলা পৌঁছে গেলাম ঢাকা৷ একটা রিক্সা নিয়ে দুইজন চলে আসসাম৷ খুব তাড়াতাড়ি ই দিনটা কেটে গেলো৷
আজ থেকে আবার অফিস শুরু৷ আর কেয়া তো আগে থেকেই মেঘার জন্য চাকরীটা আবার ঠিক করে রেখেছে৷
৯:৩০মিনিটে রওনা দিলাম দুই স্বামী-স্ত্রী আমার বাইক নিয়ে৷ পৌঁছে দেখি ৪৫বাজে৷ পেছনে মেয়ে থাকায় সাবধানে চালাতে হলো৷ নয়তো স্পীডয়ের ঠ্যালা বুঝতো৷
অফিসে এসে দেখি কেয়া নেই৷ ওর বাবা আবার অফিসে আসতে লাগলো৷ আমার কাজের কোনো সমস্যা নেই৷ আর বাসায়ও কোনো সমস্যা নেই৷ কারণ সেখানে আমার খেয়াল রাখার জন্য মেঘা আছে৷ আর অফিসেও যতোটুকু সম্ভব করে৷
আমি : আসসালামু আলাইকুম, স্যার৷
স্যার : আরে আরে নীল যে..ওয়ালাইকুমুস সালাম৷ তা কেমন আছো বাবা?
আমি : আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো৷ আপনি কেমন আছেন?
স্যার : আলহামদুলিল্লাহ্৷ তা শুনলাম বিয়ে করেছো নাকি৷ তা আমাকে দাওয়াত টুকুও দিলে না যে....(ভ্রু কুচঁকে)
আমি : আসলে স্যার সবকিছু এতো তাড়াতাড়ি হয়ে গেল যে কাউকে জানানোর সুযোগ ই হলোনা৷ সরি স্যার৷
স্যার : হাহাহাহাহা আরে আমি তো মজা করছি৷ তা সেই সৌভাগ্যবতী কে?
আমি : মেঘা৷ ওকেই বিয়ে করলাম স্যার কারণ ওর মা-বাবার শেষ ইচ্ছা ছিলো এটাই৷ ওর বাবা মারা যাওয়ার পূর্বে আমাকে বলে গেছেন৷ সেজন্য বিয়ে করলাম৷
স্যার : Proud of you young man.
আমি : Thank you, Sir.
স্যার : পরের মাসে আমার তরফ থেকে অফিসে পার্টি হবে তোমার বিয়ে উপলক্ষ্যে৷
আমি : শুধু শুধু টাকা খরচ তো৷
স্যার : চুপ আমি তোমার বাবার বয়সী মুখের উপর কথা বলবেনা৷ পার্টি হবেই৷
আমি : ওক্কে স্যার৷ এখন আসি কাজ করতে হবে তো৷
স্যার : হ্যাঁ এসো৷
চলে আসলাম কেয়ার বাবার রুম থেকে৷ যাক স্যার তাহলে রেগে নেই৷ মানে কেয়া সবকথা ওর মনেই রেখেছে কাউকে বলেনি৷ ভালোই করেছে৷ আমি আমার ডেস্কে বসে কাজ করতে লাগলাম৷
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৪(শেষ)
#Officer_Demagi_Boss_Part_14(End)
#banglastory143
পরপর ৭দিন গেল কিন্তু না কেয়া আসছে না৷ মনের মধ্যে একটা কৌতূহল জাগলো যে মেয়েটা আমাকে দেখার জন্য পাগল সে এতোদিন আমাকে না দেখে কেমনে আছে৷ এতোদিন কাউকে জিজ্ঞেসও করিনি কেয়া কোথায়?
কিন্তু আজকে যখন পিয়ন চাচাকে বললাম তখন তিনি এমন একটা খবর দিলো যা শুনে আমার মন এখনো নাচতেছে৷
কেয়া আমেরিকা চলে গেছে৷ সে নাকি আর নাও আসতে পারে৷ এইটা শুনে খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছিল৷ কিন্তু আবেগটা কন্ট্রোল করে কাজ মন দিলাম৷ তাহলে যেদিন আমার সাথে কথা বলল তারপরের দিন ই চলে গেছে৷ যাক আপদ বিদেয় হোক গে৷ দেমাগি মাইয়ার পতন ঘটলো আমার জীবন থেকে৷ হাফ ছেড়ে বাঁচলাম৷
অফিস থেকে বাসায় আসলাম৷ রাতে খাওয়া শেষ করে আমি একটু টিভি দেখতে বসলাম৷ আমি দুইটা টিভিতে হয় wwe দেখি নাহয় হিন্দি কমেডি শো গুলান৷ এখন কমেডি একটা শো চলছে ওটাই দেখছি৷ তখন আসলো আমার মহারানীটা মানে মেঘা..
মেঘা : জান দেখো তো কেমন লাগছে আমাকে? শুধুমাত্র তোমার জন্য বাসায় সাজলাম এভাবে৷
আমি মেঘার দিকে তাঁকাতেই চক্ষু স্থির হয়ে গেল৷ নীল রঙের একটা শাড়ী পড়েছে৷ সাথে ম্যাচিং করা ব্লাউস৷ তার মানে এইসব ওখানে থাকতে কেনা হয়েছে (গ্রামের বাড়ি)৷ কিন্তু মেঘাকে যে আস্ত একটা আকাশের পরীর মতো লাগছে এতে কোনো সন্দেহ নেই৷ শাড়ীটা শুধু আমার জন্য পড়েছে এভাবে৷ কারণ এখন ওর পেট দেখা যাচ্ছিল৷ টিভি দিকে আর চোখ দিতেই পারলাম না৷ কারণ সামনে একটা পরী থাকলে ওইসব টিভি মিভি কে দেখে৷ দুর হ...
আমি : মাশাআল্লাহ্...আমরা বউটাকে যে নতুন রূপে দেখছি...(তাঁকিয়েই আছি)
মেঘা : জান লজ্জা লাগছে ওমন করে তাঁকিয়ে আছো কেন?
আমি : ইসসস লজ্জাশীল বউ আমার৷ কতো লজ্জা পায় তার৷
মেঘা : ভালো হচ্ছে না কিন্তু শয়তান৷ (লজ্জায় লাল হয়ে গেছে গাল)
আমি : দাঁড়াও আজকে লজ্জার একদিন কি আমার যতোদিন লাগে৷...
বসা থেকে উঠে কেয়ার কাছে গেলাম৷ ও কিছু বুঝে ওঠার আগে ওর কমল পেটে হাত দিয়ে ওকে কাছে টেনে নিলাম৷ এতোটাই কাছে টেনে নিলাম যে ওর প্রতিটা নিঃশ্বাস টের পাচ্ছিলাম৷ লোভ সামলাতে না পেরে ৪ঠোঁট এক করে দিলাম৷ কতোক্ষণ ছিলাম জানিনা তবে ঘোরের মধ্যে ছিলাম এইটুকু জানি৷
ওকে ছেড়ে দিয়ে কোলে করে নিয়ে যেয়ে খাটে শুইয়ে দিলাম.. (লুচ্চামী ভাবলে লুচ্চামী, আর রোমান্টিক ভাবলে ধন্যবাদ)
বাকিটা ইতিহাস হয়ে রয়েছে৷ তাই বলে আবার পড়তে যাইয়েন না যাদুঘরে😂৷
এরপর থেকে আমার জীবনটাও খুব সুন্দর করে চলতে লাগলো৷ সংসারে কোনো ঝগড়া নেই৷ শুধু ভালোবাসায় পূর্ণ আমাদের জীবন৷ জানিনা কতোদিন এমন থাকবে৷ তবে সারাজীবন যেন মেঘার সাথে এভাবেই থাকতে পারি এই কামনাই করব৷
#অফিসের_দোমাগি_বস_পর্ব_১৪(শেষ)
#Officer_Demagi_Boss_Part_14(End)
#banglastory143
এখন শুনুন-- কারো কারো কথা শুনলে লেখার রুচি উঠে যায়৷ নিজে তো পারেই না, উল্টা অন্যকেও নামাতে চায়৷ গল্পটা শেষ করার ইচ্ছা ছিলোনা এতো তাড়াতাড়ি৷ কিন্তু কিছু মানুষের কড়া কথার জন্য শেষ করলাম এভাবে৷"অফিসের দেমাগি বস" ভালো করে পড়ুন,,দেমাগি বউ বলিনি আমি৷ তাই কেয়াকে বউ করিনি৷ তবে বউ করলেও সমস্যা হতোনা৷ সবার থেকে আলাদা করার জন্য এমনটা করলাম৷ পুরো গল্প শেষ করতে গেলে Season 2 করতে হবে৷
আর একটা কথা..পুরো গল্প না পড়ে ভূলভাল কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন৷ কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করলে ক্ষমা করবেন৷🙏
আর হয়তো লিখা হবেনা গল্প😔৷ সবাই ভালো থাকবেন,, সুস্থ থাকবেন এই কামনায় করি আল্লাহ্'র কাছে😘৷ লেখার ভূল ক্ষমার চোখে দেখবেন৷💞
💕[.......সমাপ্ত......]💕

No comments