গল্প | নীল চুড়ির ভালোবাসা - পর্ব-০৩


লেখক | মমিনুল ইসলাম নীল

আগের পর্বের পর থেকে,,,,,,



আমি আর বেশি কিছু না ভেবে গাড়ি চালাতে লাগলাম.......



প্রায় ১ ঘন্টা পর একটা সুন্দর বাড়ির সামনে আসতেই,



নীলা-থামো।



আমি-হুম (গাড়ি ব্রেক করে)



নীলা-গাড়িটা ভিতরে সাইট করো।



আমি-ওকে



অতঃপর গাড়িটা সাইট করে। নীলার পিছনে যেতে লাগলাম। আমি একটু অবাক রুমের ভেতর এসে, কারণ পুরো ঘরটা জন্মদিনের মতো করে সাজানো। কিন্তু রিয়া তো আমাকে জম্মদিন নিয়ে কিছু বলে নাই। হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন আমার চোখ আঁটকে ধরলো।



আমি-কে কে? কে ধরলো আমার চোখ?



নীলা-বলো তো কে ধরছে?



আমি-রিয়া (আমি রিয়ার হাত স্পর্শ করে বললাম)



রিয়া-ওই তুই আমার হাত ধরেই কিভাবে বলে দেস, এটা আমি।



আমি-তুই আমার আদরের বোন তাই।



রিয়া-খুব মিস্ করি রে ভাই তোকে।



আমি-আমিও রে।



নীলা-এভাবে জড়াইয়া থাকবা নাকি নীলকে ফ্রেশ হতে দিবা।



রিয়া-জানি তোমার জ্বলে।



নীলা-হু...



আমি-ওই রিয়া



রিয়া-কি



আমি-জম্মদিন কার?



রিয়া-নীলার।



আমি-আমাকে আগে বলবি না।



রিয়া-বলতে ভুলে গেছিলাম।



আমি-ওকে।



অতঃপর ফ্রেশ হয়ে বসে আছি। এমন সময়,

রিয়া-নীল খেতে আয়



আমি-আসতেছি



তারপর খাওয়ার জন্য নিচে গেলাম। নীলা আগে থেকেই উপস্থিত। আমি গিয়ে নীলার সামনাসামনি বসলাম। অবাক করা বিষয় আমার প্লেটে খাবার আগে থেকেই দেওয়া। ধুর....এত কিছু না ভেবে খাওয়া শুরু করলাম....



কিছুটা খেয়ে বুঝতে পারলাম, অনেক ঝাল হয়েছে তবুও ঝাল সহ্য করে খেতে লাগলাম। নীলা আর রিয়া শুধু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। অল্প অল্প করে সম্পূর্ণ খাবারটা শেষ করে বললাম।



আমি-রিয়া আমি একটু বাইরে যাবো।



কথাটি বলেই বাইরে চলে আসলাম। দৌড়ে আগে একটি দোকানে গেলাম। ১লিটার পানির বোতল কিনে সম্পূর্ণ পানি আমার পেটে পুরলাম। তারপর ঝালকে শান্ত করে গেলাম একটি মার্কেটে। অনেক দোকান ঘুরে একটি নীল শাড়ি কিনলাম।



যখন মার্কেট থেকে বের হচ্ছিলাম তখন হঠাৎ চোখ আঁটকে গেলো কিছু নীল রংয়ের চুরি দেখে। চুরিগুলো দেখতে অনেক সুন্দর লাগছিলো। আমি চুরি গুলো কিনে বাসায় চলে আসলাম।



এখন দাঁড়িয়ে আছি সদর দরজার সামনে....কেন জানি বুকের ভেতর ধুকপুক ধুকপুক করছে। বুকে ফুঁ দিয়ে ঢুকে পরলাম ভিতরে কিন্তু নীলাকে কোথাও দেখছি না। এখন কি করবো?



কি করো? হঠাৎ সামনে রিয়া এসে বললো,

রিয়া-কি হয়েছে আমার ভাইটার? কাউকে খুঁজছে নাকি।



আমি-না মানে নীলা।


রিয়া-নীলা রেডি হচ্ছে।



আমি-এই গুলো ওরে একটু দিয়ে আসবি (শাড়ি আর চুরি দিয়ে বললাম)



রিয়া-ওরে ভাবাগো, নীল শাড়িটা এত সুন্দর আর শাড়ির থেকে চুরিগুলো আরো বেশি সুন্দর। 



আমি-যা রিয়াকে দিয়ে আয় একটু।



রিয়া-ওকে



অতঃপর রিয়া উপরে চলে গেলো আর আমি সাজানো বাড়িটা দেখছি। হঠাৎ আমার চোখ আঁটকে গেলো কালো রংয়ের একটি গিটারের উপর। আমি গিটারটি হাতে নিয়ে বসে পরলাম চেয়ারে। উদ্দেশ্য গিটার বাজানো।



৫ মিনিট এলোমেলো বাজিয়ে তারপর অনেক সুন্দর একটি রোমান্টিক সুর তুললাম। সবার আকর্ষণ আমার দিকে। সবাই আমার চারপাশে গোল বৃত্তের মতো দাঁড়িয়ে আছে।



নীলা সবাইকে ধাক্কিয়ে আমার সামনে এসে হাঁপাতে লাগলো। সবই দেখছি,কিন্তু গিটার বাজানো বন্ধ করছি না। হঠাৎ নীলা আমাকে জড়িয়ে ধরলো। এবার গিটার বাজানো বন্ধ করলাম। 



আমি-কি হয়েছে নীলা?



নীলা-কিছু না। (আমাকে কিসি দিয়ে)



আমি-এটা কি হলো?



নীলা-আদর হলো। (মুচকি এসে)



আমি-মানে



নীলা-মানে কিছু না। আমার সাথে আসো।



আমি নীলার পিছনে পিছনে গেলাম। এতখন তো নীলাকে খেয়ালই করি নাই। আমার দেওয়া শাড়িটা পরছে। কি যে সুন্দর লাগছে বলে বোঝাতে পারবো না। পুরাই পরী কিন্তু ওর হাতে চুরি নাই কেন? চুরি গুলো কি তাহলে পরে নাই? 



হঠাৎ নীলা সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো,



নীলা-সবাই একটু চুপচাপ থেকে ধৈর্য্য সহকারে বসবেন প্লিজ

সবাই-ওকে



তারপর,

নীলা-নীল


আমি-জ্বী বলো।


নীলা-আমার হাত দেখছো?


আমি-হুম।


নীলা-চুরি গুলো নাই কেন? প্রশ্ন করবা না।


আমি-নাই কেন?



নীলা-শাড়িটা তোমার কাছে থেকে পরতে পানি নাই কিন্তু চুরি তো পারবো।


আমি-হুম



নীলা-চুরিগুলো কেকের পাশে রাখা।



অতঃপর আমি চুরি গুলো পরম যত্ন করে নীলার হাতে পরিয়ে দিলাম। বাহ্, এবার পরিপূর্ণ সুন্দরী লাগছে। যতোই বলি পরী পরী কিন্তু চুরি ছাড়া পরী অসম্পূর্ণ। 



তারপর দু'জন মিলে কেক কাঁটলাম। নীলা আমাকে আর আমি নীলাকে কেঁক খাইয়ে দিলাম।



তারপর হঠাৎ নীলা,,,,,,,



....

........

চলবে.....

     

       

#নীল_চুড়ির_ভালোবাসা #মমিনুল_ইসলাম_নীল #Nil_Churir_Bhalobasa #Mominul_Islam_Nil #banglastory143

No comments

Powered by Blogger.