গল্প | নীল চুড়ির ভালোবাসা - পর্ব-০৪
লেখক – মমিনুল ইসলাম নীল

আগের পর্বের পর থেকে,,,,,,
তারপর হঠাৎ নীলা.......
নীলা-নীল তোমার কাছে একটা আবদার করবো রাখবা।
আমি-কি আবদার?
নীলা-তোমার লেখা একটা গান শুনাবা
আমি-ঠিক আছে।
নীলা-থ্যাংকু
আমি- স্তব্ধ সকালে
হাতে হাত রেখে
শিশিরের বুকে
হাঁটবো দু'জন
.. গল্প হবো আমি
চিঠি হবে তুমি
নিরালে দুজন
মিলে আঁকবো ছবি
ভালোবাসার স্পন্দন
তোমায় খুলে দেখাবো
নিবিড় শেষে দুজন মিলে
হারিয়ে যাবো
স্তব্ধ সকালে
হাতে হাত রেখে
শিশিরের বুকে
হাঁটবো দু'জন
সবাই হাত তালি দিয়ে আমার গানের প্রশংসা করলো।আমি আস্তে আস্তে নীলার কাছে যেতে লাগলাম.....
আমি-কি? ম্যাডাম খুশি
নীলা-খুশি মানে জড়িয়ে ধরে আদর করতে মন চাইতাছে
আমি-কিহহহহহ্
নীলা-কিছু না। হি হি হি
হঠাৎ পেছন থেকে রিয়া বলে উঠলো,
রিয়া-কি ননদ? বলছিলাম না আমার ভাই সব পারে।
নীলা-হুম সব পারে কিন্তু রোমান্টিক না।
রিয়া-ও ভাভাগো, এই মাইয়া কি কই? আমার ভাই বলে রোমান্টিক না।
নীলা-যাহা সত্য তাহাই তো বলিলাম।
রিয়া-তুমি সত্য ছাড়িয়া মিথ্যা বলিতাছো?
নীলা-আমি মিথ্যা ছাড়া সত্য বলি না।
আমি-ওই একটা প্রশ্ন।
নীলা-আপনি আবার কি প্রশ্ন নিয়ে আসলেন জনাব?
আমি-তুমি যে বললা, তুমি মিথ্যা ছাড়া সত্য বলো না আসলে ওটা হবে আমি সত্য ছাড়া মিথ্যা বলি না।
রিয়া- হা হা হা হা
নীলা-কলো মজা কলো, আমারো দিন আসিবে
রিয়া-নীল শোন
আমি-বল
রিয়া-ওই দেখ...সুন্দরী মেয়ে বসে আছে
আমি-তো
রিয়া-ওটার সাথে কথা বল যা, মেয়েটা অনেক সময় ধরে একা বসে আছে।
নীলা-ভাবী ও জাবে কেন? দরকার পরলে তোমার জামাইরে পাঠাও।
রিয়া-তোমার ভাই তো আর অবিবাহিত না যে পাঠাবো
নীলা-তো তোমার ভাই কি অবিবাহিত?
রিয়া-অবশ্যই।
নীলা-জ্বি না। নীল বিবাহিত।
রিয়া-বউয়ের নাম কি?
আমি-তুই রাখ তোর বউয়ের নাম। আমি বিয়ে করলাম কবে।
রিয়া-তুই চুপপপপপ
আমি-.........(মুখে আঙ্গুল)
রিয়া-ওই ননদ বউয়ের নাম বলো।
নীলা-কেন? তোমার চোখে পড়ে না আমাকে।
রিয়া-এখন লজ্জা গেলো কই? নীলের সামনেই তো বললি
নীলা-ধ্যাত ভাবী (নীলা দৌড়ে পালালো....)
আমি-ওম ওম হু ওম
রিয়া-কিরে এমন করস কেন?
আমি-ওম ওম ওম হু ওম্
রিয়া-ধুররর...আগে মুখে থেকে আঙ্গুল সরা তারপর বল কি বললবি?
আমি-নীলা এইটা কি বললো রে?
রিয়া-বুঝলে বুঝ পাতা না বুঝলে তেজপাতা।
অতঃপর রিয়া চলে গেল। আর আমি মাথা চুলকাতে লাগলাম। নীলা কি বললো এগুলো?
হঠাৎ নীলা,
নীলা-আআআআআআআআআআআ
নীলা চিৎকার শুনে দৌড়ে চলে গেলাম নীলার রুমে। রুমে গিয়ে দেখি নীলা মাটিতে পরে আছে। আমি নীলার কাছে গিয়ে।
আমি-কি হয়েছে নীলা? চোখ খুলো।
এমন সময় রিয়া ঘরে ঢুকলো,
রিয়া-নীলা কি হয়েছে রে ভাই।
আমি-জানি না। চিৎকার শুনে এসে দেখি নিচে পরে আছে
রিয়া-নীল নীলাকে হাসপাতালে নিতে হবে।
আমি-তুই সবার সাথে করে ওকে নিচে নিয়ে আয়। আমি গাড়ি বের করছি।
রিয়া-আচ্ছা
অতঃপর নীলাকে নিয়ে হাসপাতালে আসলাম। নীলা ভিতরে আর আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি ডাক্তারের। প্রায় ৪৫ মিনিট পর,
ডাক্তার-এখানে নীল কার নাম?
আমি-আমার
ডাক্তার-আমার চেম্বারে আসুন
আমি আর রিয়া ডাক্তারের পিছে পিছনে চেম্বারে ঢুকলাম.....
ডাক্তার-আসুন বসুন
আমি-হুম
ডাক্তার-আচ্ছা আমাকে বলুন তো রোগী এর আগে কখনো জ্ঞান হারিয়েছে।
আমি-(রিয়ার দিকে তাকালাম)
রিয়া-হুম প্রায় অনেকবার এবং ও শুধু বলতো পেটে ব্যাথা করছে।
আমি-ডাক্তার বড় কোনো সমস্যা নাকি?
ডাক্তার-আসলে রোগীর দুইটি কিডনি অকেজো হয়ে গেছে।
আমি-রিয়া-কিহহহহহহহহহ্।
ডাক্তার-যত তাড়াতাড়ি পারেন একটি কিডনির ব্যবস্থা করেন।
রিয়া-আমাদের হাতে কতখন সময় আছে।
ডাক্তার-১২ ঘন্টা।
আমি-ডাক্তার নীলার রক্তের গ্রুপ কি?
ডাক্তার-O+
আমি-ডাক্তার আপনারা চেষ্টা করুন আমরাও দেখতাছি
ডাক্তার-ওকে কিন্তু সময়টা মাথায় রাখবেন।
....
........
চলবে.....
#নীল_চুড়ির_ভালোবাসা #মমিনুল_ইসলাম_নীল #Nil_Churir_Bhalobasa #Mominul_Islam_Nil #banglastory143
No comments