গল্প | নীল চুড়ির ভালোবাসা - পর্ব-০৭ (শেষ)


লেখক | মমিনুল ইসলাম নীল


আগের পর্বের পর,,,,,,,


আপনরা থাকেন আমি আসতেছি........

অতঃপর খেতে গেলাম। চেয়ার টেনে বসতে যাবো এমন সময়..


নীলা-বসে লাভ নেই।



আমি-কেন?



নীলা-তোমার খাবার বন্ধ।


আমি-মানে।



নীলা-মানে হলো তুমি আজ খাবার পাবে না।



আমি-রিয়া, দুলাভাই কিছু বলো।



রিয়া-আমি কিছু জানি না।



আমি-দুলাভাই।



রিয়াদ-নীলা নীলকে খেতে দে।



নীলা-ভাইয়া তুই চুপ কর।



রিয়াদ-সালাবাবু আমি আর কি কমু।



আমি-কাউকে কিছু বলতে হবে না আমি গেলাম।



রিয়া-কই যাস...



কারও কোনো কথার উত্তর না দিয়ে রেগে ফুঁসতে ফুঁসতে বাইরে চলে আসলাম..... ভাবছেন খেতে আসছি। না খেতে আসি নাই। আমি না খেলে নীলাও খাবে না। আসলে নীলা আমার সাথে দুষ্টুমি করতে চাইছে কিন্তু আমি রেগে গেছি।কিছু করার নাই আমার রাগটা একটু বেশিই। অল্পতেই রেগে যাই।



নীরব রাস্তার এক কোণা দিয়ে হাঁটছি......হঠাৎ দু এক ফোঁটা করে পড়তে শুরু করলো বৃষ্টি। খুব কম সময়ে শুরু হয়ে কাল বৈশাখির মতো ঝড়। কেন জানি আমার মনে হচ্ছে, আজকের এ ঝড় আমার জীবনেও কাল নামিয়ে আনবে....



হঠাৎ আমার চোখ একগুচ্ছ নীল ফুল দেখে থমকে দাঁড়ালো। আমি দৌড়ে ফুলগুলো হাতে নিলাম। কিন্তু ফুলগুলো এখানে রাখলো কে? হয় তো কেউ তার প্রিয় মানুষের জন্য কিনেছিলো, বৃষ্টির কারনে ফেলে গেছে।



এমন সময় সামনে থেকে কে যেন,



নীলা-নীল..



আমি-কে



আমাকে ডাক দিয়েই উধাও হয়ে গেল.....হঠাৎ পেছন থেকে কে যে আমার চোখ আটকে ধরলো.....



আমি-কে?


নীলা-কে হতে পারে।



আমি-আবার সেই কন্ঠ, আবার সেই চিরচেনা হাত। যার স্পর্শে শিহরিত হয় আমার মন।



নীলা-কি হলো? বলো।



আমি-নীলা।

নীলা আমার চোখ থেকে হাত সরিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো,



নীলা-হুম পাগল তোমার নীলা।



আমি-হুম আমার নীলা।



নীলা বরাবরের মতো আজকেও আমার সামনে আমার দেওয়া নীল শাড়ি পড়ে এসেছে। এমনিতেই সে গোলাপ সুন্দরী তার উপর আবার বৃষ্টি। বৃষ্টি যেন তার রূপকে আরও হাজার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।



একটি জিনিসের কমতি আমি অনুভব করছি কিন্তু বুঝতে পারছি না কমতিটা কোথায়? হুম, বুঝতে পারছি, কমতিটা নীলার হাতে। আমার দেওয়া চুরিগুলো নাই। এমন সময় আমি



আমি-নীলা



নীলা-আমি জানি তুমি কি বলবে?



আমি-কি বলবো বলো?



নীলা-আসো আমার সাথে,,,,



নীলা আমার হাত ধরে নিয়ে গেলো একটি রাস্তার মাঝখানে। সাধারণত এই রাস্তায় গাড়ি আসে না বললেই চলে।



হেঁটে সামনে যেতেই, রীতিমতো আমি অবাক,আমার দেওয়া চুরিগুলো দিয়ে খুব সুন্দর করে লিখা,"ভালোবাসি নীল" এর থেকে আনন্দের দিন আর কিছু হতে পারে না।খুশিতে আমার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পরলো দু ফোঁটা নোনা জল।



আমার চোখে পানি দেখে, নীলা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো,


নীলা-এই পাগল কান্না করো কেন?



আমি-কই কান্না করি, আমি তো হাসতেছি।



নীলা-তাহলে তোমার চোখে জল কেন?



আমি-এটা আনন্দের কান্না।



নীলা-এখন কান্না বাদ দিয়ে একটা একটা করে চুরি আমার হাতে পড়িয়ে দেও।


আমি-হুম



মূহুর্তের মধ্যেই সব চুরি পরানো শেষ। শুধু একটি চুরি বাকি আছে। নীলাকে জড়িয়ে, যখনি চুরিটা পরিয়ে দিতে যাবো, ঠিক এমন সময় একটি গাড়ি এসে ধাক্কা দেয় আমাদের। ছিটকে পরে যায় দুইজন দুই দিকে। শেষ স্পর্শ হয়তো করতে পারবো না। বিধাতার কাছে শুধুই একটি চাওয়া, ৭ জনম যেন আমি নীলাকেই পাই.......



—সব গল্পের শেষ হয় না, কিছু গল্প অসমাপ্ত হয়ে রয়।




[★★★ সমাপ্ত ★★★] 

      

       

#নীল_চুড়ির_ভালোবাসা #মমিনুল_ইসলাম_নীল #Nil_Churir_Bhalobasa #Mominul_Islam_Nil #bbanglastory143

2 comments:

Powered by Blogger.