জাফরিন - পর্ব-০৫ | Jafrin - Part-05
গল্প | #জাফরিন 💫
পর্ব | ০৫
লেখক | আস্থা রাহমান শান্ত্বনা

কিছু একটা ভেঙ্গে পড়ার শব্দ পেয়ে আহিন চোখ মেলল, ঘুমকাতর অবস্থা চোখ ডলতে ডলতে উঠে বসল।
#জাফরিন_পর্ব_০৫
#jafrin_part_05
#https://banglastory143.blogspot.com/
চোখের সামনে জাফরিন দেখেই ভয়ে আতকে উঠল। জাফরিন তার বরাবর উলটো হয়ে ঝুলে আছে, তার নিঃশ্বাসের সাথে ফোস ফোস শব্দ হচ্ছে। চোখ থেকে যেন ঠিকরে আগুন বের হয়ে আসছে। দেখতে ভীষণ ভয়ংকর লাগছে। জাফরিন এক লাফে আহিনের বুকের উপর এসে বসল। এক হাতে আহিনের গলা শক্ত করে চেপে ধরে আরেক হাতে কষে এক থাপড় দিল আহিনকে।
থাপড় খেয়ে আহিন হতভম্ব হয়ে গেল, এই মেয়ে এত রেগে গেল কেন! তাহলে কি রিফাতের মামা কিছুই করতে পারলনা।
"শালার শালা! তোর এত বড় সাহস কি করে হয়?"
আহিন ভয়ে চুপসে আছে, জাফরিন তার গলা এত শক্ত করে চেপে ধরেছে যে কোনো আওয়াজ-ই বের হচ্ছেনা।
"আমার সাথে চালাকি করার মজা আজ তোকে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়াব।"
জাফরিন উঠে আহিনকে কোলে তুলে নিল। আহিন হাত-পা ছোড়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছে। তার সারা শরীর যেন অবশ হয়ে আছে। জাফরিন আহিনকে বাড়ির পিছনে বাঁশঝাড়ে নিয়ে এল।
বাঁশঝাড়ের উপর বসে আহিনকে কোল থেকে ফেলে দিল, দু-একটা আছাড় মারল। আহিন প্রচন্ড ব্যথায় চিৎকার করতে লাগল, কিন্তু তার মুখ দিয়ে কোনো আওয়াজ ই বের হচ্ছে না।
এবার জাফরিন আহিনের পিঠের উপর বসে চুল চেপে ধরে বলে~
"আজ তোর সবগুলো হাড় ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো করব। আমার সাথে চালাকি!"
আবার আহিনকে কোলে তুলে নেয় জাফরিন। উড়ে উড়ে অনেক উচুতে উঠে যায়, প্রায় ২০-২২ তলার সমান। আহিন ব্যথায় মুষড়ে আছে। হয়ত হাত-পা ভেঙ্গে গেছে তার।
জাফরিন শূণ্যে থেমে থাকতে দেখে আহিন নিচের দিকে তাকায়। মাটি থেকে অনেক উপরে তারা! আহিন বুঝতে পেরে যায়, জাফরিন হয়ত তাকে এখান থেকে নিচে ফেলে দিবে।
জাফরিনের দিকে সে করুন দৃষ্টিতে তাকায়, ক্ষমা চাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু মুখ থেকে কোনো কথা ই বের হচ্ছেনা।
জাফরিন এখনো রাগে ফোসফোস করছে, আহিনের করুনদৃষ্টি তাকে একটুও কাতর করছেনা। সে আহিনকে কোল থেকে নিচে ফেলে দিল। আহিন কি করবে বুঝে উঠতে পারেনা কিছু, মূহুর্তেই জ্ঞান হারায়।
রিফাত এক চিৎকার দিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে। তাকে এভাবে চিৎকার করতে দেখে নার্স ছুটে আসে। রিফাত জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে, তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে। শরীরের গাটে গাটে এখনো প্রচন্ড ব্যথা।
#জাফরিন_পর্ব_০৫
#jafrin_part_05
#https://banglastory143.blogspot.com/
কাল যখন সে জাফরিনকে ছোয়ার জন্য তার কাছে যায়, জাফরিন এক লাফে আলমারির উপর উঠে যায়। খিলখিল করে হাসতে হাসতে বলে,
"লুচ্চার ঘরের লুচ্চা। তোর উদ্দেশ্য আমি জানিনা ভেবেছিস? ভীষণ যৌন কুতকুতানি তোর তাইনা? আজ তোকে এমন টাইট দিব আর জীবনে পুরুষাঙ্গে নেটওয়ার্ক পাবিনা!"
বলেই উড়ে এসে এক লাথি দেয় রিফাতের বুকে। রিফাত মেঝেতে পড়ামাত্রই একনাগাড়ে ৪০-৫০ টা থাপড় দেয়। তারপর উড়াধুরা লাথি দিতে থাকে শরীরের সব অংশে, একদম শেষ লাথিটা কষে দেয় রিফাতের পুরুষাঙ্গ৷ "ও মাগো" বলে চিৎকার করে উঠে সে।
এক মিনিটের জন্য উধাও হয়ে যায় জাফরিন, ফিরে আসে মস্ত বড় এক পেয়ালা নিয়ে হাজির হয়। রিফাতের বুকে উপর বসে শক্ত করে মুখ হা করিয়ে পেয়ালায় থাকা বস্তুটি খাইয়ে দেয়। খেয়েই রিফাত বমি করা শুরু করে।
জাফরিন খিলখিলিয়ে হাসতে হাসতে বলল,
"কি খাইয়েছি জানিস? তোর বন্ধুর বমির সঙ্গে বকরির কাচা নাড়িভুড়ি। এইবার যদি তোর শিক্ষা হয় লুচুব্যাটা।"
রিফাত বমি করতে করতেই কাহিল হয়ে জ্ঞান হারায়।
ডাক্তার এসে রিফাতের পাশে দাঁড়ায়।
"রিফাত সাহেব, লাঞ্চ করে ওষুধ খেয়ে নিন।"
রিফাত মুখ বাকা অবস্থায় অপষ্টভাবে বলল~
"না ডাক্তার আমি কিছু খেতে পারবনা। কিছু খেতে গেলেই আমার গা ঘিনঘিন করে বমি আসে।
ডাক্তার আমাকে রিলিজ কবে দিবেন?"
"আপনার মুখের একদিকের অংশ বেকে গেছে, আমরা ওটা ঠিক করার চেষ্টা করছি কিন্তু ওটা আর ঠিক হবেনা হয়ত। আর দুঃখিত আপনার পুরুষাঙ্গের এত বেহাল দশা হয়েছিল যে ওটা আমাদের কেটে ফেলতে হয়েছে।"
বুকের বাপাশের একটা হাড় সরে গেছে। আমরা ওটা কোনোরকমে ঠিক করে বসিয়ে দিয়েছি। তাই আর কিছুদিন আপনাকে হাসপাতাল থাকতে হবে। রিফাত সব শুনে চিৎকার করে কেদে উঠল।
আয়শা খানম আহিনের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে মুখে আচল চেপে ধরে কেঁদে উঠলেন।
"আমি জানতাম তোর সাথে খারাপ কিছু হবেই। এই মেয়ে তোকে শান্তিতে থাকতে দিবেনা, ওর জন্য তোর আরো অনেক ক্ষতি হবে।"
মোতালেব খা এক ধমক ছাড়ে,
"কি শুরু করেছো বউমা! আহিনের হাত ভেঙ্গেছে এখানে জাফরিনের কি দোষ? আহিন, তোর হাত কি করে ভাঙ্গল?"
#জাফরিন_পর্ব_০৫
#jafrin_part_05
#https://banglastory143.blogspot.com/
আহিন একনজর জাফরিনের দিকে তাকায়। জাফরিন চোখ টিপে দেয় আহিনকে। আহিন থতমত খেয়ে যায়, এই মেয়ে তার সাথে কি শুরু করেছে সে ই ভালো জানে। কোল থেকে ফেলার সাথে সাথে নিচে নেমে আবার ধরে ফেলে তাকে। নাহলে এতক্ষণে আর বাঁচা লাগত না।
"অফিসের সিড়িতে পিছলে পড়ে গেছিলাম।"
অহনা বলে উঠল, "ভাইয়া তুই তো কাল খুব তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে শুয়ে পড়েছিলি তাহলে পিছলে পড়লি কি করে!"
"আরেহ অফিসে না, বাথরুমে।"
আয়শা খানম সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায় আহিনের দিকে। নিজের ছেলেটাকে আজকাল স্বাভাবিক লাগেনা তার। জাফরিনকে তার এসবের কারণ মনে হয় তার। কিন্তু আহিন তো তাকে কিছু বলতে চায়না। ব্যাপারটাকে আরো খুটিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় আয়শা খানম।
সেদিনের পর থেকে রিফাতকে অনেকবার কল দেয় আহিন, কিন্তু রিসিভ হয়না। আহিন একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। হাত এখন ঠিক হয়ে গেছে তাই অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে আহিন। ভেবে নিল, অফিস থেকে ফেরার সময় রিফাতের সাথে দেখা করে আসবে। সেদিন কি হয়েছিল সেটা তার জানা দরকার।
চুলে জেল দিয়ে টাই ঠিক করতে করতে বের হতে যায় আহিন, জাফরিন দরজায় হাত মেলে ধরে আটকে জিজ্ঞেস করে, "ফুলবাবু সেজে যাস কোথায়?"
আহিন চুপ করে থেকে বলল, "অফিসে।"
"আসার সময় আমার জন্য বেশ ভালোমানের দামী আতর নিয়ে আসিস তো। আর এসব শাড়ি-টাড়ি আমার পোষায় না, কিছু জামা নিয়ে আসিস।"
আহিন বিরক্তি নিয়ে তাকায় জাফরিনের দিকে। জাফরিন আহিনের জোরে গাল টেনে দিয়ে বলল,
"সেদিনের মার টা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি?"
আহিন মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে চলে আসে। আজকাল জাফরিনকে যত এড়িয়ে চলতে চায়, মেয়েটা যেন তত তার পিছু ছাড়তে চায়না।
"তোকে এতবার কল দিই ধরিস না কেন?"
এই প্রশ্নে রিফাত আহিনের দিকে তাকায়। তারপর দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে বলল, "হসপিটালে ছিলাম।"
"মুখের এক পাশ বাকা কেন তোর? কথা এভাবে জড়তা নিয়ে বলছিস কেন?"
"তোর বউ আমার এই অবস্থা করে ছেড়েছে। এই পরী নয় সাক্ষাৎ শাকচুন্নি।"
"আগেই বলেছিলাম, বাড়ী গিয়ে আমাকেও এমন মেরেছে যে হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল। নিজের খেয়াল রাখিস, আমি যাই।"
রিফাত আহিনের চলে যাওয়া দেখে বিড়বিড় করে বলতে লাগল, "আমি তো এর শেষ দেখে ছাড়ব।"
আহিন শার্ট খুলে সোফায় বসে চোখ বুজে একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। জাফরিন গুণগুণ করতে করতে আহিনের পাশে এসে বসল তারপর জিজ্ঞেস করল,
"আমার জিনিস গুলো কই?"
আহিন ওই অবস্থায় ই উদাস কন্ঠে বলল, "আনিনি।"
জাফরিন আহিনকে জোরে এক ধাক্কা দিল। তাতে আহিন সোফা থেকে মেঝেতে পড়ে যায়। জাফরিন চোখ বড় বড় করে বলল, "আমার কথা শুনছিসনা তুই! কাল যদি জিনিসগুলো না পাই তাহলে দেখিস কি করি।"
আহিন ব্যাগ গোছাতে গোছাতে বারবার জাফরিনের দিকে তাকাচ্ছে। জাফরিন গভীর ঘুমে মগ্ন, এখনি সময় পালিয়ে যাওয়ার। এই মেয়ের সাথে থাকা আর সম্ভব হচ্ছেনা তার, মেয়েটা তাকে তিলে তিলে মারবে বলেই মনে হচ্ছে।
নিজেকে বাঁচাতে হলে এখান থেকে পালাতে হবে। আহিন চোরের মত ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে বাস স্টেশনে আসে। অফিস থেকে ফেরার পথে টিকেট কেটে রেখেছিল, খানিকক্ষণ বসার পর বাস চলে এল।
তড়িঘড়ি করে ব্যাগটা নিয়ে বাসে উঠে পড়ল আহিন।
বাস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সে। আজ থেকে জাফরিন তাকে আর বিরক্ত করবেনা, তার ভয়ে বাঁচতে হবেনা...
#জাফরিন_পর্ব_০৫
#jafrin_part_05
#https://banglastory143.blogspot.com/
🔰 🔰 🔰 (চলবে) 🔰 🔰 🔰
No comments