গল্প | বাড়িওয়ালীর মেয়ে | পর্ব-০৭ ◑ Bariwalir Meye - Par-07
লেখাঃ অনিক হাসান

৬ষ্ঠ অংশের পর......
এরা দু বোন আমাকে নিয়ে খেলা শুরু করেছে। আমাকে এরা কি করতে চায়? এদের কথায় কিছু বুঝতে পারি না।
এখন এসব নিয়ে ভাবা যাবে না। পড়াতে যেতে হবে।
চললাম জীবনের প্রথম প্রাইভেট পড়াতে।
দোতলায় উঠে কলিংবেল চাপলাম। একটু পর বিথী দরজা খুলে দিলো।
ওর দিকে তাকিয়ে চোখ ফেরতে পারলাম না। আসলে বিথীকে লাল শাড়িতে একদম অপরূপ সুন্দরি লাগছে।
---এমন করে কি দেখছেন?
---কিছু না তো।
---আপনার চোখ বলছে আপনি মিথ্যা বলছেন।
---আসলে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে।
---তাই?
---হুম।
---ধন্যবাদ।
---বাহিরেই দাড়িয়ে থাকবো নকি?
---ওহ! কথা বলতে বলতে ভুলেই গেছি। ভেতরে আসুন।
ভেতরে গেলাম।
---তোমার পড়ার টেবিলে চলো।
---চলুন আমার সাথে।
বিথীর পিছু পিছু চললাম। একটু পর ওর রুমে প্রবেশ করলাম।
আমার রুমের মতো না। বেশ সুন্দর করে গোছানো। এক কথায় রুমটা ভালো লেগে গেলো।
বিথী টেবিলের পাশে একটা চেয়ার দেখিয়ে আমাকে বসতে বলল। আমি চেয়ারে বসে পরলাম। টেবিলের অপর প্রান্তে আরেকটা চেয়ারে বিথী বসলো।
এভাবে কখনও কোনো মেয়ের সামনে বসা হয়নি। তাই ভেতরে ভেতরে ভয় পাচ্ছি। কি বলে পড়ানো শুরু করবো বুঝে উঠতে পরলাম না।
---কি ভাবছেন?
---কিছু না।
---আজকে কিন্তু আমি পড়বো না।
---কেনো পড়বে না?
---এমনি। এটা আমার ইচ্ছা।
---আমি এটা মানতে পারবো না।
---না মানলে কিছুই করার নাই। আর বেশি চলাকি করলে আম্মুর কাছে আগের কথা বলে দেবো।
---যাও বলো গিয়ে। আমি তোমাকে পড়াবোই না। (রেগে বললাম)
---আপনি এতো রেগে যাচ্ছেন কেনো?
---তো তোমার কথা শুনে কি করবো বলো?
---আসলে....
----বলতে হবে না। একটা থাপ্পরের জন্য কান ধরে উঠবস করিয়েছো। এতেও তোমার শান্তি হয়নি। এখন আবার ব্লাকমেইল করছো।
---সরি।
তোমাকে সরি বলতে হবে না। তুমি তোমার আম্মুকে গিয়ে সব বলে দাও। তিনি হয়তো আমাদের বাসা থেকে বের করে দিবে। এতে আমার ভালোই হবে। অন্তত তোমার ব্লাকমেইলের হাত থেকে বাঁচা যাবে। আমি আর এখানে এক মুহূর্ত থাকতে চাই না বলে চেয়ার থেকে উঠে পরলাম।
---বিথী উঠে আমার হাত চেপে ধরলো।
---আমার হাত ধরলে কেনো?
---আপনি এভাবে চলে গেলে আম্মু খুব কষ্ট পাবে। আমি কথা দিচ্ছি আপনাকে আর কখনও ব্লাকমেইল করবো না।
---সত্যি বলছো তো।
---হুম সত্যি সত্যি সত্যি।
---আমার একটা কথা আছে।
---কি কথা?
---তোমাকে পড়ানোর সময় আমাকে স্যার বলবে।
---আচ্ছা চেষ্টা করবো।
---আচ্ছা।
---এখন তাহলে পড়ানো শুরু করেন।
বিথীকে কিছুক্ষণ পড়িয়ে চলে আসলাম।
যাক একটার হাত থেকে বাঁচলাম। আরেকটার হাত থেকে বাঁচতে পারলেই হয়।
এই শুভ সংবাদটা রাফিকে দিলে ভালোই হয়। তাই ওকে ফোন করলাম।
প্রথমবার ফোন দিলাম। ফোন ওয়েটিং। দ্বিতীয় বারও তাই। তৃতীয় বার ফোন ধরলো।
---এতক্ষণ কার সাথে কথা বললি?
--- গার্লফ্রেন্ড ফোন করছিলো।
---তা তোর গার্লফ্রেন্ড কি বলল?
---আর বলিস না। খুব টেনশনে আছি।
---কি হয়েছে আমাকে বল?
---ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
---বলিস কি?
---হ্যা রে দোস্ত তুই কিছু একটা কর।
---কবে বিয়ে বল?
---আর ৭ দিন পর।
---তুই কোনো টেনশন করিস না। আমি তোদের পালানোর সব ব্যবস্থা করে দেবো।
---ধন্যবাদ দোস্ত।
---বন্ধুর বিপদে বন্ধু পাশে দাড়াবে না তো কে দাড়াবে?আর ধন্যবাদ দিয়ে তুই ধন্যবাদ দিয়ে আমাদের বন্ধুত্বকে ছোট করিস না। মনে কর এটা আমার কর্তব্য।
---তুই কি যেনো বলতে ফোন দিছিস?
তেমন কিছু না। তোর খোজ নিতে ফোন করছিলাম। (ওকে মিথ্যা বললাম। কারণ ওর এখন কষ্টের সময়। ওকে শান্তনা না দিয়ে আমার খুশির কথা বললে রাফি মনে কষ্ট পেত। তাই বললাম না।)
---ও আচ্ছা।
---টেনশন করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে।
---ফোনটা কেটে দিলাম। ভেবেছিলাম আজ একটু শান্তিতে ঘুমাবো। তা আর হলো না।
সকালে ঘুম ভাংলো আম্মুর ডাকে। ঘুম থেকে উঠে নামাজ পরলাম। নামাজ শেষ করে ছাদে গেলাম।
আজ আর কেউ ছাদে আসলো না। একটু পর নেমে আসলাম।
নাস্তা করে রেডি হলাম ভার্সিটি যাওয়ার জন্য। হঠাৎ ফোনে একটা মেসেজ আসলো।
---আমাকে ফেলে চলে যেওনা যেনো।
ইতি
তিথী
আমিও মেসেজ দিলাম।
---তুমি কি কচি খুকি যে একলা যেতে ভয় করে?
---হ্যা আমি কচি খুকি। তুমি আমাকে নিয়ে যাবে।
---আমি তোমাকে সাথে করে নিয়ে যেতে পারবো না।
---কেনো পারবে না?
---এমনি।
---তুমি আমাকে নিয়ে যাবেই।
---আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড বা বর না। তাই তোমাকে সাথে নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।
---তোমাকে শেষ বারের মতো বলছি আমাকে তোমার সাথে নেবে কি না?
---নেবো না। পারলে তুমি কিছু করো।
---ওকে তোমাকে দেখাচ্ছি মজা!
---দেখি তুমি কেমন মজা দেখাতে পারো।
---আচ্ছা।
এদিকে তিথী এসে আম্মুকে বলল,
---আন্টি কেমন আছেন?
---ভালো, তিথী মা তুমি কেমন আছো?
---আন্টি বেশি ভালো না।
---কেনো মা কি হয়েছে?
---ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় কিছু বখাটে ছেলেরা বাজে কথা বলে। তাই একা একা যেতে ভালো লাগে না।
---আমি অনিককে বলছি এখন থেকে তোমাকে সাথে করে নিয়ে যাবে নিয়ে আসবে।
---ধন্যবাদ আন্টি।
---অনিক শোন তো। (মা আমাকে বলল)
---আমি রেডি হয়ে একেবারে আসছি। (আমি)
---আচ্ছা আয়।
---তিথী মা তুমি এখানে বসো।
---বসছি আন্টি।
----মা আমাকে ডাকলে কেনো? আর তিথী এখানে কি করছে?
----তোকে ডাকছি এজন্য যে তুই এখন থেকে তিথীকে সঙ্গে করে ভার্সিটিতে নিয়ে যাবি আর নিয়ে আসবি।
---আমি এ কাজ পারবো না।
--- তোকে এই কাজ করতে হবে এই আমার আদেশ।
----তিথী আমার দিকে তাকিয়ে একটা শয়তানি হাসি দিলো। যেটা শুধু আমি দেখতে পেলাম। মেজাজটা খারপ হয়ে যাচ্ছে। মা'র জন্য কিছু বলতে পারছি না।
---আম্মু কিছু বলতে যাবে তার আগে আম্মুকে থামিয়ে তিথী বলল,"থাক আন্টি,আপনার ছেলে যেহেতু আমাকে নিবেনা তাহলে আমি একাই যাবো।"
---একি বলছো মা, তুমি মেয়ে মানুষ। আমি তোমার কষ্ট বুঝি। তুমি একা বের হলে শয়তানগুলো আবার তোমাকে বিরক্ত করবে। আমি এটা হতে দিতে পারি না। তাই বলছি তুমি অনিকের সাথে যাবে।
---অনিক আমার কথা বুঝতে পারছিস?
---জ্বি আম্মু।
---আর শোন তিথীকে দেখে রাখবি।
---আচ্ছা।
---আর মা তিথী শোনো।
---জ্ব আন্টি বলেন।
---অনিক যদি তোমাকে কিছু বললে নির্ভয়ে আমাকে এসে বলে দিবে। তারপর আমি ওর ব্যবস্থা করবো।
----আচ্ছা আন্টি। এখন তাহলে আসি।
নিজের আপনজন শত্রুর সাথে হাত মেলালে কেমন লাগে? তিথীকে তো এখন আর কিছুই বলা যাবে না।আমার আম্মুকে নিজের দখলে নিয়ে নিছে। কিছু বললেই আম্মুকে বলে দেবে।
---এইযে ওখানে দড়িয়ে আছো কেনো?(তিথী)
---এমনি।(আমি)
---তারাতারি আসো।
---আসছি ম্যাডাম।
---এই একটা রিকশা ডাকোতো।
---ওই আমি কি তোমার চাকর হয়েছি?
---এখন আপাতত চাকর হিসাবে আছো।
মেয়েটা বলে কি? আম্মু আমাকে ওকে কিছু বলতে বারণ করেছে। তাই বেঁচে গেলো।
---রেগে লাভ নেই। তারাতারি রিকশা আনো।
---আমাকে না বলে নিজেই তো রিকসা ডাকতে পারো?
---তুমি থাকতে আমি কেনো রিকশা ডাকবো?
---আম্মুর জন্য বেঁচে গেলে।
--- তোমাকে যা বলেছি তাই করো।
---এই রিকশা এদিকে আসো।
---মামা কই যাবেন? (রিকশাওয়ালা)
---ভার্সিটিতে যাব।যাবে কি?(আমি)
---হ যামু। উঠেন।(রিকশাওয়ালা)
---এইযে ম্যাডাম আসুন, রিকশা পেয়েছি।
তিথী রিকশায় উঠলো, তারপর আমি উঠলাম। রিকশা চলতে শুরু করলো ভার্সিটির উদ্দশ্যে।
চলবে......
#banglastory143,
#bariwalir_meye_part_07,
#bangla_love_story,
#bangla_romantic_story,
#বাড়িওয়ালীর_মেয়ে
If you like our story, you must stay with us to get new stories. Follow our website, then you can easily get new stories.
No comments