প্রিন্সের প্রতিশোধ - পর্ব-১১+১২ (শেষ) | Prince Revenge - Episode-11+12 (The End)


গল্প | #প্রিন্সের_প্রতিশোধ ( #Prince_Revenge)

পর্ব | ১১+১২ (শেষ)

লেখক | #রাকিব_হাসান_রাজ





জান্নাত অরফে অহনা মাস্ক সরাতেই অবাক হলো কারন মাস্কের পেছনে আর কেউ নয় আমি।



জান্নাত : এসবের মানে কি মিস্টার রাকিব? (রেগে)



আমি : আবার কি মানে আজকে তোমার জন্মদিন তাই এই আয়োজন।



জান্নাত : আপনি কিন্তু পারসোনাল হয়ে যাচ্ছেন আর ভুলে যাবেন না আমি আপনার সিনিয়র তাই আপনি করে বলেন।


#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-১১+১২ (শেষে)
#prince_revenge_episode_11+12(end)
#bangla_story_143

আমি : তুমি এতোদিন কেন আমার থেকে তোমার আসল পরিচয় লুকালে অহনা?



অহনা : আপনি কি কি সব বলছেন। (ভয় পেয়ে)



আমি : আমি আরও অনেক কিছু জানি তোমার সম্পর্ক এ যা তুমি নিজেও জানোনা। আচ্ছা তুমি আমাকে বলতে পারতে যে তুমি ফিরোজ কে মারতে চাও তাহলে আমি নিজে সাহায্য করতাম।



অহনা : এবার কিন্তু বেশি বলে ফেলছেন। (প্রচণ্ড রেগে)



আমি : আমার কথা তো শুন।


আর কিছু বলার আগে অহনা ওর হ্যান্ড ব্যাগ থেকে রিভালওয়ার বের করে আমার দিকে তাক করল।



অহনা : আপনি এই শহর থেকে চলে যান এইসব বিষয় যদি কারও সাথে আলোচনা করেন তাহলে আমি এখনই আপনাকে শুট করব।



আমি : তুমি তোমার প্রিন্স কে এত সহজে মারতে পারবে। আমি এত সহজে মরব না যতক্ষণ আমি আমার পিতা-মাতার প্রতিশোধ না নিয়ে এত সহজে মরবনা। আর আমি মরলে তোমার কি হবে। মনে আছে ছোটবেলায় তুমি আমার সাথে হাসবেন্ড ওয়াইফ খেলতা। আর তুমি বলতে আমাদের ২ হালি বাচ্চা হবে। আমাকে যদি মেরে ফেল তাহলে তার কি হবে।



আমি একদমে কথাগুলো বললাম।

অহনা আমার কথা শুনে বন্দুক হাত থেকে ফেলে দিল।



অহনা : তুমি কি..কি তাহলে পি..প্রি প্রিন্স? (কাপা কাপা কন্ঠে)



আমি : এতক্ষণ ধরে এত কিছু বললাম তারপরেও বিশ্বাস হচ্ছেনা।



তুমি ছোটবেলায় তো সবাইকে খুব সহজেই বিশ্বাস করে ফেলতে। এই কয়েক বছরে এত চেঞ্জ? (কিছু টা ঠাট্টা করে বললা)



অহনা : কখন কোথা থেকে কাছের মানুষ আঘাত করবে তা বলা যায় না আর বিশ্বাস সেটা এখন কারও উপরে হয়না। তুমি যে প্রিন্স তার প্রমাণ কি?



আমি : তুমি যে আমাকে তুমি করে বললা এটা তার প্রমান। আরও প্রমাণ লাগলে বলছি মনে আছে আমার যখন দশ বছর ছিল তখন তুমি আমাকে বলেছিলে তোমার ফেভারিট ফুল হলো বেগুনী গোলাপ। আরও প্রমান লাগলে বলছি যেদিন আমাদের ফার্ম হাউজে আগুন লেগেছিল তার আগের দিন রাতে তুমার সাথে খেলতে খেলতে তুমি আমার উপরে পড়ে গিয়েছিলে আর তোমার ঠোট এর সাথে আমার ঠোট মিশে যায় আই মিন লিপ কিস হয়েছিল। আরও প্রমান লাগলে বলছি তোমার কোমরে একটা তিল,,,


#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-১১+১২ (শেষে)
#prince_revenge_episode_11+12(end)
#bangla_story_143


আর কিছু বলার আগে অহনা আমাকে জড়িয়ে ধরল। আর পাগলের মত কান্না করতে লাগল।



আমিও তো চাই কান্না করুক এতদিনের জমানো কান্না বলে কথা।



অহনা : জানো আমি তোমাকে কত খুজেছি সেই দিন যখন আমাদের উপর হ্যাটাক হয় তখন আমি ওয়াশরুম এ ছিলাম। আমি বেড় হয়ে দেখি চারদিকে লাশ পড়ে আছে পুরো বাড়ি রক্তে লাল হয়ে গেছে। আমি আম্মু আর আব্বুকে জড়িয়ে কাঁদছিলাম তখন কাদের যেন কথা শুনতে পেলাম। আমি বুঝে গেলাম এটা কাদের কাজ আর বুঝে গেলাম এখন বাড়িটা উড়িয়ে দিবে। তাই আমি সেখান থেকে পালিয়ে যাই। আমি তোমাকে অনেক খুজেছিলাম কারন আমি তোমার লাশ দেখি নাই তাই আমার বিশ্বাস ছিল যে তুমি একদিন না একদিন আমার কাছে ফিরে আসবে। তারপর আমি রাস্তায় পাগলের মত হাটছিলাম। তখন একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা খাই।



আমার চোখ যখন খুলে তখন আমি হাসপাতালে ছিলাম। আর আমার সামনে একজন মহিলা ছিল যে আমাকে এখানে নিয়ে আসে। তার কোনো সন্তান ছিল না আর তার স্বামী অনেক আগেই মারা যায়। তাই আমি তার পুরো পৃথিবী হয়ে যাই।



আমি আমার প্রতিশোধ ভুলেনি তাই আস্তে আস্তে আমি নিজেকে প্রস্তুত করে নেই। আমি আমাদের অফিসে চাকরি নেই যাতে তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারি এবং তাদের সকল তথ্য আমি পেতে পারি।



যখন ফিরোজ অফিসে এলো মিটিং এর জন্য তখন আমি তাকে একা পেয়ে পিছন থেকে আঘাত করতে যাই কিন্তু ফিরোজ আমাকে আটকিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। তারপর আমার আর কিছুই মনে নেই। আমার চোখ খুললে আমি তোমাকে দেখতে পাই। তারপর পরেরদিন শুনি ফিরোজ মারা গেছে। তারপর বাকি ৩ জনই অফিসে এসে গেলো। আমি জসিমকে অফিসের ছাদে আসতে বলি।



তারপর জসিমকে খুন করি তখন তুমি ছাদে এসে পড়লে আর আমি লুকিয়ে যাই কিন্তু তাও তুমি আমাকে দেখতে পাওনি। আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম যখন সবার কম্পিউটার এ ই মেইল আসে প্রিন্স ইজ ব্যাক। আমার মনে হয়েছিল যে আমি আমার প্রিন্স কে ফিরে পেয়েছি। কিন্তু কে আমার প্রিন্স তাই তো খুজে পাচ্ছিলাম না। তারপর তুমি সবই জানো।



আমি : ওহহ আই সি.....


#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-১১+১২ (শেষে)
#prince_revenge_episode_11+12(end)
#bangla_story_143


অহনা : তাহলে তুমি বল তোমার সাথে কি হয়েছিল?



আমি : সেইদিন রাতে আকবর চাচা আমাকে নিয়ে অন্য শহরে পালিয়ে যায়। সেখানে তিনি আমাকে জসিম, ফিরোজ, এজে আর রক্তিম এর কথা বলে। আমি তখন থেকে নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করি।



তারপর আমি আকবর চাচার মেয়ে রিচিকে নিয়ে এখানে চলে আসি। পরবর্তীতে আমি আমাদের অফিসে চাকরিতে জইন করি। পরে যখন ফিরোজ অফিসে আসে তখন আমি অফিসে লুকিয়ে থাকি যতক্ষণ না অফিসের সব এমপ্লয়ি চলে যায়।



 তারপর আমি ফিরোজ এর কেবিনের সামনে গিয়ে দেখি তুমি সেন্সলেস হয়ে পড়ে আছ। আর ফিরোজ তোমার সাথে খারাপ কিছু করার চেষ্টা করছিল। তাই আমি ফিরোজ কে মেরে তোমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।



যখন তোমাকে জিজ্ঞাস করি তুমি সেন্সলেস কিভাবে হয়েছিলে তখন তুমি কারেক্ট এনসার দেওনি তাই তোমার উপর আমার সন্দেহ হয়।



পরেরদিন যখন আমি দেখি জসিম অফিসের ছাদে যাচ্ছে তখন আমি তার পিছু পিছু যাই আর গিয়ে দেখি জসিম মরে পরে আছে আর তার লাশের পাশে আমি তোমার একটা কানের দুল পাই। সেই কানের দুল আমি তোমার কানে দেখেছিলাম।



তারপর আমি যখন সবাইকে ইমেইল করি তখন অফিসের সবাই চিন্তিত ছিল কিন্তু তুমি খুশি ছিলে আর আমার সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। তারপর আমি তোমার বাসা খুজে বেড় করি আর তোমার বাসায় এসে তোমার রুমে আসি।


তারপর তোমার দেওয়ালে তোমার প্রস্তুতির এক ঝলক দেখতে পাই। আর তোমার মাকে প্রেসারাইজ করে সব তথ্য বেড় করি। আমি রিতিমত অবাক যে তুমি আমার কাছেই ছিলে। আর আমি তোমাকে পাগলের মত খুজে বেড়াচ্ছিলাম। তারপর তোমার জন্মদিনে সব থেকে বড় উপহার হিসেবে আমি নিজেকে তোমার সামনে নিয়ে এলাম। 



অহনা : আমি কখনো ভাবতেই পারিনি যে তুমি আমার এত কাছে ছিলে কিন্তু এবার যখন তোমাকে পেয়েছি আর তোমাকে কোথাও যেতে দিবনা।


#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-১১+১২ (শেষে)
#prince_revenge_episode_11+12(end)
#bangla_story_143


আমি : এবার আমাদের এক হয়ে লড়তে হবে যাতে আমরা আমাদের প্রতিশোধও নিতে পারি আর আমাদের কোম্পানিও নিজেদের করতে পারি।



অহনা : হ্যা আমাদের অবশ্যই করতে হবে।



আমি : অনেক কথাতো হলো এবার কেক কাট না হলে আমি চলে যাব।



অহনা : কোথাও যাবেনা আমি কেক কাটছি।



আমি : ওয়েট এক মিনিট।



আমি ৩ বার হাত তালি দিলাম আর আড়াল থেকে অহনার পালিত মা, রিচি আর রাহুল আসল।



অহনা : মা তার মানে তুমি এখানেই ছিলে আর আমার সামনেও এলেনা।



অহনার পালিত মা : কি করব বল প্রিন্স যে তোকে অনেক খুজেছে অবশেষে যখন পেল তখন তোকে একটু সারপ্রাইজ দিল আর কি।



আমি : অহনা এই হলো রিচি আকবর চাচার মেয়ে। আর রাহুলকে তো তুমি চিনো।



অহনা আর রিচি একে অপরকে জড়িয়ে ধরল।



আমি : রাহুলের কিন্তু আরেকটা পরিচয় আছে আর সেটা হলো রিচি আর রাহুল একে অপরকে ভালোবাসে।



অহনা : তাই নাকি রাহুল?



রাহুল : না মানে, ইয়ে, আসলে,,,


#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-১১+১২ (শেষে)
#prince_revenge_episode_11+12(end)
#bangla_story_143


অহনা : হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবেনা এবার কেক কাটব সবাই আসো।



তারপর অহনা কেক কাটল আমরা অনেক মজা করলাম।



আমি আর রিচি হোটেলে ফিরে এলাম। অবশ্য অহনা প্রথমে নিষেধ করেছিল কিন্তু আমাদের সব জিনিস পত্র হোটেলে ছিল তাই থাকতে পারিনি।



সকালে,,,

এজে আর রক্তিম পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে আর তাদের গাড়ির পিছনে আরও ৩ টি গাড়ি আসছে। সেই গাড়িতে এজে এবং রক্তিম এর বডিগার্ড রা আছে। আসলে যখন তারা জানল প্রিন্স বেঁচে আছে তখন তারা আর কোনো রিস্ক নিতে চায়না।



কিন্তু হঠাৎ একটা গাড়ি ব্লাস্ট হয়ে গেল। সবাই নেমে গেল।



সবাই বুঝতেই পারল না কি থেকে কি হয়ে গেল?



তারপর একের পর এক বডিগার্ড এর নিথর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকল।



এজে আর রক্তিম কিছুই বুঝতে পারছেনা।



যখন আর কোনো বডিগার্ড বেচে নেই তখন তাদের ২ জনের সামনে প্রিন্স এসে দাঁড়াল।



প্রিন্স : কি রে কিছুই বুঝতে পারলিনা কি থেকে কি হলো? আসলে আমি তোদের গাড়ির নিচে বোম রাখি তারপর গাড়ি ব্রাস্ট হয়।



যখন তোরা গাড়ি থেকে নামলি আমি সবাইকে সাইলেন্সার যুক্ত বন্দুক দিয়ে শুট করি।



এজে : কে তুই?



আমি : তোদের আজরাইল প্রিন্স কে ভুলে গেলি কিভাবে কুত্তা?


#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-১১+১২ (শেষে)
#prince_revenge_episode_11+12(end)
#bangla_story_143


রক্তিম : তারমানে তুই প্রিন্স?



আমি : হ্যা আমিই প্রিন্স আর 



এজে : তুই সেইদিন বেঁচে গেলি কিভাবে?



আমি : শুধু আমি একাই বাচিনি আমার সাথে অহনাও বেচে গিয়েছিল শুধু আমি জানতাম না কিন্তু এখন আমার সাথে অহনাও আছে।



কথা বলার সাথে সাথে অহনা আমার পাশে এসে দাঁড়াল



এজে : তুমি আমাদের অফিসের হেড স্টাফ জান্নাত না?



অহনা : তুই ঠিকই বললি কিন্তু আমি জান্নাত না অহনা তোদের আজরাইল। তোরা কি ভেবেছিলি তোরা আমাদের আম্মু আব্বুকে মেরে ফেলবি আর আমরা কিছুই করবনা?


রক্তিম : সেদিন তোরা বেঁচে গিয়েছিলি কিন্তু এখন আর বাঁচবিনা।



কথাটা বলার সাথে সাথে রক্তিম অহনার দিকে বন্দুক তাক করে শুট করল।



কিন্তু তার আগে আমি অহনাকে অন্য দিকে নিয়ে যাই।



তারপর আমি রক্তিম কে শুট করি কিন্তু সেটা এজের শরীরে গিয়ে লাগে।



আমার আর রক্তিম হ্যান্ড টু হ্যান্ড ফাইট হয় এমন সময় অহনা এসে রক্তিমকে শুট করল সাথে সাথে রক্তিম এর নিথর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।



অহনা : অবশেষে আমি আমার আম্মু আব্বুর খুনের প্রতিশোধ নিলাম। (কেঁদে কেঁদে)



আমি অহনাকে কি বলে সান্তনা দিব আমি জানিনা কারন এই কান্না তো আমারও পাচ্ছে কিন্তু আমি কাঁদলে অহনাও ভেঙে পরবে।

#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-১১+১২ (শেষে)
#prince_revenge_episode_11+12(end)
#bangla_story_143


অহনা শান্ত হওয়ার পর,



অহনা : এবার কি করব?



আমি আমার শার্টের একটা বোতাম খুললাম। আসলে ওটা বোতাম না বরং একটা সিক্রেট ক্যামেরা।



আমি : এবার এই ক্যামেরায় বন্দি হওয়া এজে আর রক্তিম এর শিকারত্তি সি বি আই কে দিয়ে দিব। তারপর তারা যা করবে তাই হবে।



অহনা : কিন্তু আমরা জেলে গেলে আমাদের কোম্পানির কি হবে?



আমি : আমরা নয় আমি জেলে যাব আর তুমি কোম্পানি সামলাবে।



অহনা : এ হয়না আমরা একসাথেই জেলে যাব।



আমি : তুমি আমার কথা বুঝছনা কেন আমাদের কোম্পানিতে তোমার এক্সপেরিয়েন্স আছে যা কারোর মধ্যে নেই তাই তুমি অফিস সামলাবে আর আমার তেমন শাস্তি হবে না কারন আমার কাছে প্রমাণ আছে যে ওরাই আমাদের আম্মু আব্বুকে খুন করেছিল আর এখন রক্তিমই আগে আমাদের উপর ফায়ার করেছিল।



অহনা : কিন্তু তাও,,,,,



আমি : আর কোনো কিন্তু নয়।



বর্তমানে,

আমি : এবার আমার হিস্ট্রি শুনলেন তো এবার আইন আমাকে যে শাস্তি দিবে তা আমি মানব।



আদালত সব প্রমাণের ভিত্তিতে আমাকে ৫ বছরের শাস্তি দেয় কিন্তু আমার ভালো ব্যবহারের জন্য ৩ বছরের মধ্যেই আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।



আজ আমার আর অহনার বিয়ে হলো।



রাহুল আর রিচিরও বিয়ে আজকে হয়ে গেলো।

#প্রিন্সের_প্রতিশোধ_পর্ব-১১+১২ (শেষে)
#prince_revenge_episode_11+12(end)
#bangla_story_143


আকবর চাচা এখন আমাদের সাথেই থাকে।



এভাবে কাটতে থাকে আমাদের সুখের জীবন। 





🍁🍁🍁 সমাপ্ত 🍁🍁🍁

No comments

Powered by Blogger.