জাফরিন পর্ব-০২ | Jafrin - Part-02

জাফরিন পর্ব-০২

আস্থা রাহমান শান্ত্বনা

"দাদা, আপনি যে মেয়েটাকে আমার জন্য পছন্দ করেছেন সে আসলে....... এইটুকু বলেই আহিন ঢক গিলল। আহিনের দাদা নাস্তা খাওয়া বন্ধ করে ধরা গলায় বলল,

" সে আসলে কি!!" সবাই নাস্তা খাওয়া বন্ধ করে বিস্মিত চোখে আহিনের দিকে তাকিয়ে রইল। আহিন দ্বিতীয়বার ঢক গিলে সবার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে নিলে জাফরিন এসে তার পাশে দাঁড়ায়। আহিনের পিঠে নখ দিয়ে খুব জোরে একটা আচড় কাটে।

আহিন ব্যথা পেয়ে কোকড়িয়ে উঠে। আহিনের মা আয়শা খানম উঠে আহিনের কাছে এগিয়ে এসে কি হয়েছে জানতে চাইল। আহিন একনজরে জাফরিনের দিকে তাকায়। জাফরিন অগ্নিচোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

#জাফরিন_পর্ব-০২
#jafrin_part-02
#banglastory143


-" কিছু হয়নি মা, পেট টা মোচড় দিল। আমি উঠছি।"

-" আহিন, অধের্ক কথা বলে চুপ হয়ে যাওয়া কি ধরণের বেয়াদপি!" দাদার এমন কঠিন কথায় আহিন মাথা নিচু করে বলল, "মেয়েটা আসলেই একটু বাচ্চা ধরণের এটাই বলতে চেয়েছি।"

-"বয়স কম, একটু বাচ্চামি থাকবে। সেসব তুমি যদি সামলে নিতে না পারো স্বামীর দায়িত্ব কিভাবে পালন করবে?"

দাদার কথা শুনে মাথা নাড়িয়ে সায় দিয়ে আহিন উঠে চলে আসে। রুমে এসে টি-শার্ট টা খুলে নেয়, পিঠের মাঝখানটা এখনো খানিকটা জ্বলছে। খুব গভীরভাবে আচড় কেটেছে মেয়েটা! ক্ষতের স্থানে হাত দিতেই তরল কিছু আঙ্গুলে লাগল, রক্ত বের হচ্ছে সেখান থেকে। আহিন টি-শার্ট সোফার উপর ছুড়ে ফেলে বিছানায় বসে পড়ল।

দরজা লক করার শব্দে সে তাকিয়ে দেখে জাফরিন দরজা বন্ধ করে তার দিকে এগিয়ে এসেছে। চোখ দুটো এখনো তীব্র ক্রোধে জ্বলজ্বল করছে।

আহিন খানিকটা দমে যায়, তার ভাবনায় আসে জাফরিন নিশ্চয়ই তাকে ব্যাপারটার জন্য আরো বড় ধরণের অত্যাচার করতে দরজা বন্ধ করেছে। জাফরিন এসে তার পিছনে দাঁড়ায়, এরপর ক্ষতস্থান হাত দিয়ে বলে,

" অতিরিক্ত চালাকির ফল কখনো ভালো হয়না। কি ভেবেছিস, আমি রান্নাঘরে ছিলাম এই সুযোগে সবাইকে আমার পরিচয় বলে দিবি।"

#জাফরিন_পর্ব-০২
#jafrin_part-02
#banglastory143

আহিনের মনে হল তার ক্ষতস্থানে খুব ঠান্ডা কিছু ঘষা হচ্ছে, তাতে জ্বালা কমলেও ক্ষতস্থানটা যেন কুটকুট করছে।

জাফরিন আহিনের গাল দুটো শক্ত করে চেপে ধরে বলল,

" আগেও বলেছি, আবারো বলছি আমি সব বুঝতে পারি। আমার সাথে চালাকি করতে আসিসনা। আর কোনোদিন যদি এসব করতে দেখি, পুরো শরীর ঝাঝরা করে দিব।

আমার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া অসম্ভব।

নিজের আর পরিবারের ভালো চাইলে চুপ থাক।" বলে জাফরিন দরজা খুলে বেরিয়ে গেল। আহিনের মাথাটা যেন টেনশানে ছিড়ে যাচ্ছে। এই আপদ কেন তার ঘাড়ে উঠল বুঝতে পারছেনা, না কিছু করতে পারছে আর না সহ্য করতে পারছে!


এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে যায়। এরমধ্যে আহিনের ছোটবোন অহনার সাথে জাফরিনের বেশ ভাব হয়েছে। অহনা সারাক্ষণ ভাবির পাশে ঘুরঘুর করে, গল্প করে। জাফরিন ও তার সাথে বেশ স্বাভাবিক আচরণ করে, বলতে গেলে সবার সাথেই সে স্বাভাবিক। আহিন এসব দেখে আর ভাবে, " জাফরিন আসলে চায় টা কি! কেন একজন অশরীরী হয়েও এখানে পড়ে আছে।" 

অনেক প্রশ্ন মনে জাগলেও জিজ্ঞেস করার সাহস পায়না জাফরিনের ভয়ানক ক্রোধের কারণে। বাসার কাউকে ব্যাপারটা জানাতে চাইলেও পারেনা।

জাফরিনের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে আহিন। খুব সকালে বেরিয়ে অফিসে যায় আর ফেরেও অনেক রাত করে। এসে দেখে জাফরিন তার জন্য টেবিলে খাবার নিয়ে বসে আছে। খেতে না চাইলেও জোর করে গিলায়, আলাদা ঘরেও শুতে দেয়না। প্রায় সব ব্যাপারে জোর খাটায়। দিন দিন ব্যাপারগুলো আহিনের কাছে বিরক্তকর হয়ে যায়।

#জাফরিন_পর্ব-০২
#jafrin_part-02
#banglastory143

" তুই সত্যিই বলছিস তোর বউ পরী?"

বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করে আহিনের বন্ধু রিফাত। আহিন চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে হতাশকন্ঠে বলে,

" তোর কি মনে হয় আমি মজা করছি!"

" এটা কি করে হয়? তোর শরীর ঠিক তো নাকি কিছু খেয়েছিস?" রিফাতের এমন কথায় আহিন বিরক্ত হয়ে তার দিকে তাকায়। রিফাত সেটা বুঝতে পেরে বলে,

" আচ্ছা আচ্ছা রাগ করিসনা। পুরো ব্যাপারটা আমাকে বল।" আহিনের কথা শুনতে শুনতে রিফাত ভাবে, সে আহিনের বেস্টফ্রেন্ড। প্রায় সব কথা ই আহিন তাকে শেয়ার করে, মিথ্যা বলে মজা করার ছেলে আহিন নয়। আর আহিনের চোখ-মুখ ই বলে দিচ্ছে সে ইদানিং কোনোকিছুতে বেশ ঘাবড়ে আছে।

সবটা শুনে রিফাত একটু সময় নিয়ে বলল,

" আমার মনে হচ্ছে মেয়েটা তোকে বোকা বানাচ্ছে। আজকালকার যুগে এসব কেউ বিশ্বাস করে? মেয়েটার অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে তাই তোকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখতে চাইছে। ঘাবড়াসনা, আমি একে ভালো করে টাইট দিয়ে দিব। কাল ই তোদের বাসায় যাব।"

আহিন রিফাতের কথায় পুরোপুরি ভরসা না পেলেও কিছুটা আশ্বস্ত হয়।

#জাফরিন_পর্ব-০২
#jafrin_part-02
#banglastory143

রিফাত সন্ধ্যার দিকে আহিনের সাথে তার বাসায় আসে। জাফরিন তখন অহনার সাথে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে। রিফাতকে দেখে পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার ভালো করে তীর্যকদৃষ্টিতে তাকায়। রিফাত জাফরিনকে দেখে হুমড়ি খেয়ে যায়, মেয়েটা হয়ত সত্যিকারের পরী না হতে পারে দেখতে পরীর চেয়ে কম না। জাফরিনের আকর্ষণীয় শরীর তার কামনাকে জাগ্রত করে।

আহিনকে সে মনে মনে গালি দিতে থাকে, এমন একটা মেয়েকে পরী ভেবে ভয় পায়। কিন্তু জাফরিনকে দেখে যে রিফাতের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে সেটা কে কি করে ঠিক করবে! এরজন্য তো জাফরিনকে তার নিজের করে পাওয়া চাই।

আহিন রিফাতকে বিদায় দিয়ে রুমে ঢুকতেই জাফরিন তাকে ধাক্কা দিয়ে শূণ্যে ভাসিয়ে রাখে। তারপর নিজের শূণ্যে উঠে আহিনের চারপাশে হাটতে হাটতে বলতে লাগল,

" তোর বন্ধু কেন এসেছিল?"

আহিন ভীতমুখে আমতা আমতা করে বলল,

" ও বিয়ের সময় আসেনি তাই আজ বউ দেখতে এসেছিল।"

জাফরিন ভ্রু বাকিয়ে আহিনের দিকে তাকাল। আহিনের দাম যেন আটকে এল। জাফরিন কিছু বুঝতে পারেনি তো!

জাফরিন আহিনকে নিচে নামিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেল। আহিন যেন কিছুটা হাফ ছেড়ে বাচল।

রিফাতের চোখের সামনে বার বার জাফরিনের শরীরের দৃশ্য ভাসতে লাগল। তার প্রচন্ড নারী আসক্তি তাই বন্ধুর বউ জেনেও এসব কল্পনা করতে তার বিবেকে বাধছেনা। শুধু মনে হচ্ছে, একবারের জন্য হলেও জাফরিনকে তার বিছানায় চাই। আহিন যেহেতু তার বউকে অশরীরী ভেবে ভয় পাচ্ছে তাই ব্যাপারটা খুব বেশী কঠিন হবেনা।

#জাফরিন_পর্ব-০২
#jafrin_part-02
#banglastory143

এই ভেবে শয়তানি হাসি দিয়ে মনে মনে সে একটা প্ল্যান কষে নেয়।

♦♦♦

♦♦

(চলবে)

No comments

Powered by Blogger.