গল্প | সুবর্ন মহাপাত্র
যদিও আমি মেয়ে নই, তবুও গল্পটা লিখতে গিয়ে চোখ দিয়ে দু-ফোঁটা জল পড়েই গেল...!!
–সুবর্ন মহাপাত্র–

সামাজিক ভাবেই বিয়ে হয় রানা আর
সুতপার।
.
মোটামোটি সুখেই চলছে তাদের সুখের
সংসার।
.
কিন্তু রানা সব সময় সুতপার কাছে
একটা চাওয়া চেয়ে এসেছিল। চাওয়াটা
ছিলো একটা ফুটফুটে সন্তান (ছেলে/
মেয়ে)
.
বিয়ের দুই বছর পর সুতপার কোল জুড়ে
আসে পুত্র সন্তান।
.
বেশ হাসি খুশি, প্রানবন্ত ভাবে
কাঁটছে দিন গুলো।
.
কিন্তু রানা কোথাও যেন কিছু একটার
অভাব বোঝতে পারে।একদিন সে
সুতপাকে তার অভাবের কথা গুলো
খুলে বলল।
.
অভাব ছিলো পুত্র সন্তান এর পাশা
পাশি একটা কন্যা সন্তানের।
.
একদিন রানা অফিস থেকে বাড়ি ফিরে
আসে।
তখন সুলতপা,রানার কানে কানে
বলে,ওগো তুমি আবার বাবা হতে
চলেছো।
.
দ্বিতিয় বার বাবা হওয়ার খুশিতে
আত্মহারা হয়ে যায় রানা।
ভগবানের ইচ্ছা আর রানার আকুল
আবেদনে সুতপার কোল জুড়ে কন্যা
সন্তান জন্ম নেয়।
.
খুব সুন্দর ফুঁটফুঁটে, মুখের দিকে তাকালে
মনে হয়, এ যেনো স্বর্গের দেবী জন্ম
নিয়েছে। খুব সখ করে রহিম তাকে
এঞ্জেল বলে ডাকে।
.
আস্তে আস্তে এঞ্জেল বড় হতে
থাকে,যদি ভুল করেও কোন দিন রানা
তার এঞ্জেল এর জন্য চকলেট আনতে ভুল
করতো,তাহলে সেই দিন বাবার সাথে
কথা বলা বন্ধ করে দিতো ছোট
এঞ্জেলটি।
.
না, কোন রাগ করে কথা বন্ধ করতো না
ছোট্ট এঞ্জেলটি,এটা ছিলো বাবার
প্রতি অভিমান।কেনো আজ তার জন্য
চকলেট আনেনি তার আব্বু?
.
এঞ্জেল এর বয়স যখন ১০বছর।তখন মা-
বাবা-ভাই সবাইকে বোঝতে শিখে
যায়।
.
সারাদিন খেলা ধুলা শেষ করে,রাতে
অপেক্ষায় থাকতো কখন বাবা আসবে,আর
তাকে এত্ত গুলো চকলেট দিয়ে বলবে,এই
নাও এঞ্জেল তোমার জন্য চকলেট
এনেছি।
.
প্রতি রাতে রানা অফিস থেকে বাড়ি
ফেরার সময় তার ছোট্ট এঞ্জেল এর জন্য
চকলেট নিয়ে আসে।আর বাড়ি পৌঁছে
দরজায় কঁড়া নাঁড়াতেই ছোট এঞ্জেলটি
দৌড়ে এসে রানার কোলে উঠে, দুই
গালে আদর করে চুমু খায়,মিষ্টি মিষ্টি
করে বাবা বলে ডাকে।আর রানাও ছোট্ট
এঞ্জেলটির আদরে সারাদিনের
ক্লান্তি গুলো ভুলে যায়।
.
বাবার আদরের এঞ্জেলটি আস্তে
আস্তে অনেক বড় হয়ে যায়।
.
একদিন এঞ্জেল স্কুল থেকে বাড়ি এসে
দেখে তার বাড়ির সামনে অনেক
লোকজন ভীড় করছে।সবাই কাঁদছে, লোক
জনের ভীড় ঠেলে এঞ্জেলটি ঘড়ে ঢুঁকে।
.
ঘরে ঢুঁকেই এঞ্জেল বাকরুদ্ধ হয়ে পরে।
বাবার দেহটা সাদা কাপড়ে মাটিতে
শুয়ে আছে।
মা বাবার নিথর দেহটার পাশে বসে
কাঁদছে, আত্মিয় স্বজন সবাই আজ
তাদের বাড়িতে, আর কখনো এত মানুষ
এক সাথে তাদের বারিতে দেখেনি
এঞ্জেলটি।
.
বাহিরের দিকে তাকিয়ে দেখে কিছু
লোক বাবার শেষ কর্ম করার জন্য ব্যাস্ত।
.
ধির পায়ে মা এর পাশে গিয়ে বসে
এঞ্জেলটি।
.
মা এই মা,তোমরা কাদঁছো কেনো??
কাঁদো কাঁদো কন্ঠে কথা গুলো বলে
উঠে এঞ্জেলটি।
.
মা কোন জবাব দিতে পারছে না।কি
বলবে ছোট এঞ্জেলটিকে?? তার বাবা
আর বেঁচে নাই!! না এটা বললে
এঞ্জেলটি বাবার শোকে শোকে
নিজেও শেষ হয়ে যাবে।
কিছু না বলেই ছোট্ট এঞ্জেলটিকে বুকে
জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে তার মা।
.
মা এর বুক থেকে নিজেকে বের করে
এঞ্জেলটি এখন বাবার লাশ কে চিৎকার
করে বলতে লাগলো।
.
ও বাবা,বাবা,উঠো, দেখনা সবাই
তোমার জন্য কেমন করে কাঁদছে। ও
বাবা উঠনা, আমার জন্য আজ চকলেট
আননি??
বাবা উঠো বাবা,কথা বলো বাবা।
.
চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো এঞ্জেল।
কিন্তু বাবার কোন সাড়া পায়না।
.
মুহুর্তেই সেই ছোট্ট এঞ্জেলটি অজ্ঞান
হয়ে যায়।তাকে সবাই ধরা ধরি করে
মাথায় জল দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা
করতে লাগলো।
.
এক সময় বাবার লাশটা ঘর থেকে বের
করে নিয়ে যাওয়া হলো।
.
জ্ঞান ফেরার পর দেখতে পেলো সব
কিছুতেই শুন শান নিরবতা। সবাই আছে
কিন্তু বাবাকে কোথাও দেখতে
পাচ্ছেনা।এতক্ষনে নিশ্চই বাবাকে
ওরা সবাই চিতাতে রেখে চলে এসেছে।
.
এঞ্জেলটি বুঝতে পারে, তার বাবা
আর তার জন্য চললেট আনবে না। আদর
করে বাবার দুই গালে আর চুমু খেতে
পারবে না।কোন কারনে বাবার সাথে
মান-অভিমান করতে পারবে না।জীবন
থেকে অতি মূল্যবান জিনিস হারিয়ে
ফেলেছে সে।
.
পৃথিবীর সব এঞ্জেল এর বাবা গুলো
ভালো থাক, আর কখনো যেনো ভগবান
সেই সব ছোট্ট এঞ্জেল গুলোর বাবাকে
কেড়ে না নেয়।
#সুবর্ন_মহাপাত্র #Subarna_Mahapatra #banglastory143
Sotti oshadharon
ReplyDelete